চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) দেশের ব্যাংক শাখাগুলোতে আসা প্রবাসী আয়ে বা রেমিট্যান্সে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে রাজধানী ঢাকা। অন্যদিকে, প্রবাসী আয়ের শীর্ষ ১০টি জেলার তালিকার মধ্যে একক বিভাগ হিসেবে চমক দেখিয়েছে চট্টগ্রাম। এখানের মোট ছয়টি জেলা এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত জেলাভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসীরা দেশে মোট ৮৫৯ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে একক জেলা হিসেবে সর্বোচ্চ ৩৬.৪৫ শতাংশ রেমিট্যান্স এসেছে ঢাকা জেলার ব্যাংক শাখাগুলোর মাধ্যমে। ঢাকা বিভাগে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩১৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার। ঢাকা বিভাগের অন্য জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় নবম স্থানে মুন্সীগঞ্জ (১৬ কোটি ৯২ লাখ ডলার) এবং দশম স্থানে রয়েছে মাদারীপুর (১৬ কোটি ৯ লাখ ডলার)।
এদিকে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে ছয়টি জেলা স্থান পেয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহের শীর্ষ দশে। এগুলো হলো— চট্টগ্রাম (দ্বিতীয়), কুমিল্লা (তৃতীয়), নোয়াখালী (পঞ্চম), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (ষষ্ঠ), ফেনী (সপ্তম) ও চাঁদপুর (অস্টম)। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামের এই ছয় জেলাতেই এসেছে মোট ২০৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, যা সারাদেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের ২৩.৯৩ শতাংশ।
বিভাগীয় হিসেব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ২২৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার এবং সিলেট বিভাগে ৭৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। একক জেলা হিসেবে সিলেট জেলা ৪২ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পেয়ে সারাদেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩৬ কোটি ১৯ লাখ ডলার, রাজশাহী বিভাগে ২৯ কোটি ৪ লাখ ডলার, বরিশাল বিভাগে ১৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং রংপুর বিভাগে ৯ কোটি ৮ লাখ ডলার এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবাসী আয় এসেছে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলায়, যার পরিমাণ মাত্র ৪১ লাখ ডলার। সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স পাওয়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে একই বিভাগের লালমনিরহাট (৪৯ লাখ ডলার) এবং তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলা রাঙামাটি (৫০ লাখ ডলার)।
রেমিট্যান্সের হালনাগাদ তথ্য মতে, অন্যান্য জেলার মধ্যে টাঙ্গাইলে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার, নারায়ণগঞ্জ ১৫ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, মৌলভীবাজার ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, লক্ষ্মীপুর ১৩ কোটি তিন লাখ ডলার, গাজীপুর ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, নরসিংদী ১২ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, কিশোরগঞ্জ ১২ কোটি ৩২ লাখ ডলার, হবিগঞ্জ ১০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, সুনামগঞ্জ ৯ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, ফরিদপুর ৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার, শরীয়তপুর ৯ কোটি ১২ লাখ ডলার, ময়মনসিংহ আট কোটি ৩৪ লাখ ডলার, যশোর সাত কোটি ২৬ লাখ ডলার, মানিকগঞ্জ ছয় কোটি ২৯ লাখ ডলার, বরিশাল ছয় কোটি ১০ লাখ ডলার, বগুড়া পাঁচ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, কক্সবাজার পাঁচ কোটি ৫১ লাখ ডলার, পাবনা পাঁচ কোটি ১৭ লাখ ডলার, কুষ্টিয়া চার কোটি ৯৪ লাখ ডলার, খুলনা চার কোটি ৮৬ লাখ ডলার, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার কোটি ৪৯ লাখ ডলার, জামালপুর চার কোটি ২৮ লাখ ডলার, গোপালগঞ্জ তিন কোটি ৯৭ লাখ ডলার, সিরাজগঞ্জ তিন কোটি ৭৫ লাখ ডলার, ঝিনাইদহ তিন কোটি ৬৫ লাখ ডলার, রাজশাহী তিন কোটি ৪৭ লাখ ডলার, নওগাঁ তিন কোটি ৪২ লাখ ডলার, ভোলা তিন কোটি ৩১ লাখ ডলার, সাতক্ষীরা তিন কোটি ৩০ লাখ ডলার, রাজবাড়ী তিন কোটি ২৬ লাখ ডলার, চুয়াডাঙ্গা দুই কোটি ৮৯ লাখ ডলার, বান্দরবান দুই কোটি ৬১ লাখ ডলার, বাগেরহাট দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার, মেহেরপুর দুই কোটি ৫৭ লাখ ডলার, পিরোজপুর দুই কোটি ৫৫ লাখ ডলার, নড়াইল দুই কোটি ২০ লাখ ডলার, মাগুরা এক কোটি ৯২ লাখ ডলার, রংপুর এক কোটি ৮৫ লাখ ডলার, নাটোর এক কোটি ৮১ লাখ ডলার, নেত্রকোনা এক কোটি ৬৮ লাখ ডলার, পটুয়াখালী এক কোটি ৬২ লাখ ডলার, গাইবান্ধায় এক কোটি ৫৮ লাখ ডলার, বরগুনা এক কোটি ৫২ লাখ ডলার, দিনাজপুর এক কোটি ৫০ হাজার ডলার, ঝালকাঠি এক কোটি ২৩ লাখ ডলার, জয়পুরহাট এক কোটি ১৭ লাখ ডলার, নীলফামারী এক কোটি ৩০ লাখ ডলার, জয়পুরহাট এক কোটি ১৭ লাখ ডলার, কুড়িগ্রামে এক কোটি ১৫ লাখ ডলার, শেরপুর এক কোটি চার লাখ ডলার, খাগড়াছড়ি ৮৪ লাখ ডলার এবং ঠাকুরগাঁও ৭৯ লাখ ডলার।
আপনার মতামত লিখুন : :