• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

বিএসইসিতে নতুন কমিশন: পুঁজিবাজার সংস্কারে ১০ কর্মসূচি


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম বিএসইসিতে নতুন কমিশন: পুঁজিবাজার সংস্কারে ১০ কর্মসূচি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই পুঁজিবাজার সংস্কারের ১০ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মাসুদ খান। তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন বাজারে আস্থা পুনর্গঠন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কমানো, ডিজিটাইজেশন, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মাসুদ খানকে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অভিজ্ঞ করপোরেট নির্বাহী। নতুন দায়িত্বে আসার আগে তিনি ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন।
একই দিন তিনজন নতুন কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ আল তারিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব এবং আশা ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক (অর্থ) তানভীর হাবিব রহমান। নতুন কমিশন আগামী চার বছর দায়িত্ব পালন করবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ খান বলেন, অর্থনীতির আকার বড় হলেও পুঁজিবাজার সেই গতির সঙ্গে এগোতে পারেনি। অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েছেন, ভালো কোম্পানির বাজারে আসার আগ্রহ কমেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগও হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় আস্থা পুনর্গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নতুন কমিশনের অন্যতম ঘোষণা হলো, আর কোনো নতুন ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হবে না। বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইসও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। চেয়ারম্যান বলেন, মূল্য নির্ধারণ করবে বাজার—কারসাজি নয়। তিনি জানান, খুচরা বিনিয়োগকারীনির্ভর সীমান্ত বাজার থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগনির্ভর উদীয়মান বাজারে রূপান্তর করাই নতুন কমিশনের লক্ষ্য। এ জন্য বিদ্যমান বিধিমালা, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও রিপোর্টিং কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন দাখিলের বর্তমান বাধ্যবাধকতাও পর্যালোচনা করা হবে।
পুঁজিবাজারের আধুনিকায়নে ডিজিটাইজেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইপিও আবেদন, রাইটস শেয়ার, বন্ড ও সুকুক ইস্যু, লাইসেন্সিংসহ নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম ধাপে ধাপে পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হবে।
ভালো মানের কোম্পানির ঘাটতি দূর করতে বহুজাতিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে বাজারে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিং কাঠামো চালু এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর সুবিধাসহ বিশেষ সুবিধা দিতে সরকার ও এনবিআরের সঙ্গে কাজ করবে কমিশন।

Side banner 1 Side banner 2