• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
বৃত্তি পেল ২২ শিক্ষার্থী

চরশিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গৌরবময় অর্জন


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | সোহাইল আহমেদ জুলাই ১২, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম চরশিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গৌরবময় অর্জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ২৯ নং চরশিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ বছর বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২২ জন বৃত্তি লাভ করে এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর বিদ্যালয় থেকে মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে ২৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট ২২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ১৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৯ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।
এ সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। অনেকেই এটিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।


ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ত্ব-সিন আহমেদ বলেন, “এই সাফল্যে আমি খুবই আনন্দিত। আমার শিক্ষকরা সব সময় আমাদের আন্তরিকভাবে পড়িয়েছেন এবং বাবা-মাও নিয়মিত পড়াশোনায় উৎসাহ দিয়েছেন। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর আমেনা আক্তার বলেন, “বৃত্তি পাওয়ায় আমি খুব খুশি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমাদের সব সময় সাহস ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমি ভবিষ্যতেও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে আরও ভালো ফল করতে চাই। আমার এই সাফল্যের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক এবং সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর আবু হানিফ বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর আন্তরিক নেতৃত্ব, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি নিয়মিত তদারকির কারণে বিদ্যালয়টি একাধিকবার জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এবারও ২২ জন শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন সেই ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রমাণ। আমরা আশা করি, তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতেও আরও বড় বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং আমাদের সন্তানরা মানসম্মত শিক্ষায় এগিয়ে যাবে।”


বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মা আঁখি মনি বলেন, “আমার সন্তানের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করিয়েছেন বলেই আমাদের সন্তানরা ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছে। আমরা বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সন্তানদের পড়াশোনার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
আরেকজন অভিভাবক বলেন, “চরশিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ সাফল্য শুধু আমাদের সন্তানদের নয়, পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষকরা নিয়মিত খোঁজখবর নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে প্রস্তুত করেছেন। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়টি এ ধরনের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে এবং আরও বেশি শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে বৃত্তি অর্জন করবে।”
বিদ্যালয়ের এ সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আগামী দিনেও বিদ্যালয়টি আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা করছি।


বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা মমতাজ বেগম বলেন, “চরশিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ সাফল্য আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং শিক্ষকবৃন্দের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম রেজা স্যারের দক্ষ নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও নিরলস পরিশ্রম বিদ্যালয়টিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে এবং তিনিও দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের ২২ জন শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন সেই ধারাবাহিক সাফল্যেরই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়টি আরও গৌরবময় সাফল্য অর্জন করবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম রেজা বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের অর্জন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে শিক্ষকবৃন্দ আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “চরশিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। শিক্ষার্থীদের আন্তরিক পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষকবৃন্দের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আমি বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

Side banner 1 Side banner 2