• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

চলমান দুর্যোগে প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা 


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১০, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম চলমান দুর্যোগে প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলমান দুর্যোগে প্রশাসনকে দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অনুষঙ্গ সাহায্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।
এসময় মানবিক মূল্যবোধেরভিত্তিতে সবাই একসঙ্গে দেশ গড়তে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান মাহদী আমিন।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ- 
১। প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
২। চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
৩। জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গত মানুষদের কাছে দ্রুততম সময়ে  সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৪। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
৬। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণে প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন, সশরীরে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
৭। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবাই ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে। এই সংকটে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ জনগণের পাশে রয়েছেন।
৮। ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
৯। এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।
১০। টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য সরকার নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করবে।
আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন। জনগনের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

Side banner 1 Side banner 2