তিতাস বহমান শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পাদপীঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। এই জেলার প্রমত্তা মেঘনা কোলঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি বাঞ্ছারামপুর। সুখি সুন্দর শান্তিপ্রিয় পরিচ্ছন্ন সমৃদ্ধ বাঞ্ছারামপুরের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী, সচিব, শিক্ষাবিদ, কৃষিবিদ, ক্রীড়াবিদ, শিল্পউদ্যোক্তা, বৈজ্ঞানিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আধ্যাত্মিক সাধক সহ দেশ বরেণ্য অগণিত কৃতি সন্তান। যারা এই সমাজ, দেশ ও জাতির উন্নয়নে ঈশ্বণীয় অবদান রেখেছেন। তাদেরই একজন ডক্টর এ এফ এম আমীর হোসেন। তিনি ১৯৭৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চ শিক্ষায় সুশিক্ষিত ডক্টর এ এফ এম আমীর হোসেন বর্তমান সরকারের যুগ্মসচিব পদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আছেন। ২০০১ সালের ৩১ মে ২০তম বিসিএস এর মাধ্যমে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করা এই কর্মকর্তা ২০১৮ সালে উপসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। ইতোপূর্র্বে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। মূলত: সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তাকে প্রেষণে বিপিএটিসিতে পদায়নের অনুরোধ করা হলে তিনি তাতে সম্মতি প্রদান করেন এবং ২০০৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর বিপিএটিসিতে বিভিন্ন ক্যাপাসিটিতে সহকারি পরিচালক, উপপরিচালক, পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। তারও পূর্বে তিনি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক এবং পরবর্তীতে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। প্রাথমিকে স্কলারশিপ ও মাধ্যমিকে ট্যালেন্টপুলে স্কলারশিপসহ তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে এসএসসি পাশ করেন। স্কুল জীবনে তিনি সকল শ্রেণিতে ফাস্টবয় ছিলেন। ঢাকাস্থ কবি নজরুল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় আইন অনুষদের মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে এলএলবি অনার্সে ভর্তি হন। ৬ মাস ক্লাশ শেষে ইংরেজির প্রতি অনুরাগের কারণে একই শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা অনুষদের অধীনে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে যথাক্রমে ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে অনার্স ও মাস্টার্স এবং এরই ধারাবাহিকতায় এমফিল গবেষণা প্রোগ্রামে ভর্তি হন। এমফিল প্রথম পর্বের ফলাফলে তিনি উক্ত বিভাগে রেকর্ড সংখ্যক নম্বর পেলে তার এমফিল গবেষণাকর্মকে পিএইচডিতে রূপান্তর করা হয়। ২০১৮ সালে তিনি Teaching the English Language to the Civil Servants of Bangladesh: Needs, Problems and Solutions বিষয়ে গবেষণা সম্পন্ন করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ইতোমধ্যে ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Public Service Management বিষয়ে ডিষ্টিংকশনসহ এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্বের ৪৫টি দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডার বিভাগ এর অধীন প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন স্পিচ এ্যান্ড ল্যাংগুইজ থেরাপি বিষয়ে একজন ফেলোও তিনি। এর বাইরেও তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের University of Alabama, Birmingham, USA ও সিভিল সার্ভিস কলেজ, সিঙ্গাপুর থেকে Leadership বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ে উপসচিবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সাভার চামড়া শিল্পনগরী Dhaka Tannery Industrial Estate Waste Treatment Plant Company LTD এর বোর্ড অব গভর্ণরস এর পরিচালক এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্পের অধীন ফরিদপুর চিনিকলের বোর্ড অব ডিরেক্টরস এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে Public Speaking, Business Communication, Business Writing, Listening, Public Management, Debate, IELTS, TQM, TQP, Mind mapping, Self-analysis সহ বিভিন্ন বিষয়ে সিভিল সার্ভিসের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বেসামরিক কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। তিনি BPATC, BIAM, BCSAA, RPATC, NAPD, NAEM, NYC, Bangladesh Scouts, BPMI, TSC, Civil Aviation, ICMH, Comilla BARD, Postal Academy Rajshahi সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে থাকেন। ইতোপূর্বে তিনি BRAC University‡Z Masters in Governance and Development (MAGD) Programme এ দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ MATT 2 প্রকল্পে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ দক্ষতা অর্জনে তিনি দীর্ঘদিন Facilitator এর ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশে TQM (Total Quality Management) বিষয়ে একজন Certified Trainer. ডক্টর এ এফ এম আমীর হোসেন উচ্চতর প্রশাসন ও উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ এর লক্ষ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, চায়না ভ্রমণ করেছেন। UNDPএর উদ্যোগে ইয়ুথ লিডারশিপ প্রোগ্রামে সিভিল সার্ভিসের ইয়ং লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সরকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য তিনি অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। যুক্তরাজ্যে মাস্টার্সে পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি Wolverhampton Roayal Mail এ সুপারভাইজার হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করেন। তিনি শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে ফ্রান্স ভ্রমণ করেন। ডক্টর আমীর হোসেন দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক মানের স্বনামধন্য জার্ণাল Bangladesh Journal of Public Administration (BJPA) এর Assistant Editor হিসেবে কাজ করেন। এখন পর্যন্ত তার ৩টি গবেষণা গ্রন্থ ও ৫টি প্রবন্ধ বিভিন্ন জার্ণালে প্রকাশিত হয়েছে। তার রচিত ৩টি বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। বইগুলোর ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। উল্লেখ্য তিনি বিপিএটিসিতে উপপরিচালক প্রকাশনা পদে দীর্ঘ ৬ বছর কাজ করেন। চাকুরির পাশাপাশি আমীর হোসেন নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তিনি বর্তমানে ২০তম বিসিএস ব্যাচের সকল ক্যাডারের সংগঠন ‘বৃত্ত’ এর সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ ৮ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে সাভারের বলিয়ারপুরে ও বনশ্রীর নবীনবাগে দু’টি আবাসন প্রকল্প যথাক্রমে ‘বৃত্ত পল্লী-১ ও বৃত্ত পল্লী-২ পরিচালিত হচ্ছে। সেই সাথে বৃত্ত কল্যাণ তহবিল গঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি গভর্ণমেন্ট অফিসার্স মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি (জিওএমসিএস) লিমিটেডের সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন এর সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সিংগাইর-ফোর্ডনগর ডেভেলপমেন্ট সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান, রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং ভেলানগর সমিতির সভাপতি। ছোটবেলা থেকেই ইনডোর গেমস এ তার ভীষণ আগ্রহ। দাবা, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মুন-শিশির স্মৃতি টুর্ণামেন্টে দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন। তাছাড়া বিপিএটিসির ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় ২০০৬ সালে তিনি রানার আপ নির্বাচিত হন। পারিবারিক ঐতিহ্যের আবহে ডক্টর আমীর হোসেন বেড়ে উঠেছেন। তার পিতা মরহুম আব্দুল আলীম একজন সরকারি চাকুরিজীবী ছিলেন। তার মাতা মরহুমা আছিয়া আলীম একজন স্বশিক্ষিত মানুষ ছিলেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার বড় ভাই মো. সেলিম রেজা সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। বড় বোন সরকারের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইন্সপেক্টর। মেঝো ভাই এ এন এম মাহবুব আলম মুন্সিগঞ্জ জেলার জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। আরেক বোন গৃহিনী। ব্যক্তিগত জীবনে আমীর হোসেন বিবাহিত। তার সহধর্মিনী মোসা. খাদিজা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বদরুন্নেছা কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স, হোম ইকোনোমিক্স কলেজ থেকে শিল্পকলায় মাস্টার্সসহ প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেন। সে জার্মানভিত্তিক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী ওয়ার্ল্ডকেট পুমার সিনিয়র ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। চাকুরি ছেড়ে দিয়ে তিনি পরিবার ও ছেলেমেয়েদের দেখাশুনা করছেন। ডক্টর আমীর হোসেন ও খাদিজা আক্তার দম্পত্তি এক ছেলে আইয়্যান আমীর প্রত্যয় ও এক মেয়ে আরিয়ান আমীর প্রকৃতির বাবা মা। বর্তমানে প্রকৃতির বয়স দুই বছরের উপরে। ব্যক্তিগত জীবনে ডক্টর এ এফ এম আমীর হোসেন একজন সহজ সরল ও অতি নিরহংকারী এবং পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গীর মানুষ। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী বাঞ্ছারামপুরের এই কৃতি সন্তান ইংরেজ কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়র এর ভক্ত এবং তার মতো তিনিও মানুষের অপরিসীম ক্ষমতা ও অসীম সম্ভাবনায় বিশ্বাসী। হ্যামলেট এর সেই বিখ্যাত চরণ কয়টিকে ধারণ করে তিনি গণমানুষের অসীম সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সর্বাঙ্গীণ সুন্দর আগামী বিনির্মাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে সদা তৎপর আছেন। What a piece of work is man! how noble in reason! how infinite in faculty! in form and moving how express and admirable! in action how like an angel! in apprehension how like a god! the beauty of the world, the paragon of animals! And yet, to me, what is this quintessence of dust?
আপনার মতামত লিখুন : :