৩-১ গোলের স্কোরকার্ড দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, আর্জেন্টিনা আজ হেসেখেলে জিতেছে। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা কি এত সহজ ছিল? এর উত্তর হবে ‘না’। কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটা পেনাল্টি শুটআউটে যাওয়া যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, তখনই ম্যাচটা জিতে সেমির টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। সুইসদের হারানোর পর সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন লিওনেল মেসি।
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার পর মেসি-লাউতারো মার্তিনেসরা উদযাপন শুরু করেন। আনন্দে মেসিও নিজের জার্সি খুলে ফেলেছেন। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের একটি ছবি নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আবারও কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু এই দল কখনোই বিশ্বাস হারায় না। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছি। চলো এগিয়ে যাই আর্জেন্টিনা।’

আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ আর্জেন্টিনা জিতেছে হেসেখেলে। তবে নকআউট পর্ব থেকেই লিওনেল স্কালোনির দল একের পর এক রোমাঞ্চ উপহার দিচ্ছে। কেপ ভার্দে, মিসর দুই দলের বিপক্ষেই ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। যার মধ্যে মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে। আজ আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল ৯০ মিনিট শেষে ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১২ ও ১২০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ১ মিনিটে গোল দুটি করেন হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেস। যেখানে সবার আগে ১০ মিনিটে গোল করেন আলেক্সিস মাক আলিস্তার।
সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পর মেসি কতটা উচ্ছ্বসিত, সেটা তাঁর উদযাপন দেখে বোঝা গেছে। সুইসদের ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের জন্য এই ধাপটি পার হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা জানতাম, এটি খুবই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এই জয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’
সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাতে করে বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটল এক ইতিহাস। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারে থাকা দলগুলো এবারই প্রথমবারের মতো খেলছে সেমিফাইনালে। ১৪ জুলাই ডালাসে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-স্পেন। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স ও স্পেন অবস্থান করছে ১ ও ৩ নম্বরে। আর আটলান্টায় ১৫ জুলাই হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের অবস্থান ২ ও ৪ নম্বরে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর যখন বিশ্বকাপের সূচি যখন ঠিক করা হয়েছিল, তখনো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল ছিল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড।
আপনার মতামত লিখুন : :