ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের কৃতি সন্তান মো. মোমেন শিকদার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী। বাঁশগাড়ি গ্রামের সিকদার বাড়ির সম্ভ্রান্ত পরিবারের মো. ওমর আলী শিকদারের মেজো ছেলে মো. মোমেন শিকদার। তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজপথের একজন পরীক্ষিত লড়াকু সৈনিক।
মোমেন শিকদার প্রাইমারি ছাত্র জীবন থেকে স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও সরব ছিলেন। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক জীবনে দলীয় আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুৎ হননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া এই ত্যাগী কর্মী বিগত সময়ে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েও আন্দোলন সংগ্রামে মাঠ ছাড়েননি। দলের দুঃসময়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে নিয়মিত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সরব ছিলেন। আর সেই কারণে বহুবার পুলিশ ও আওয়ামীপন্থী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন।

২০১২ সালের ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েও পরিষদের কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হন। শুধু বঞ্চিত হননি, গালাগালি ও অপমান থেকেও রক্ষা পাননি। অশ্রু ভেজা চোখে বের হয়ে আসতে হয় পরিষদ থেকে। সেই স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে পথ চলা এই মোমেন শিকদার বিগত সময়ে শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতো। বিশেষ করে তাকে দেখা যেত বিভিন্ন মিটিং মিছিলের সামনের সারিতে। আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র একমাত্র নিবেদিত প্রাণ মোমেন সিকদার যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ জানাত।
মোমেন সিকদার আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে শারিরিক ও আর্থিকভাবে অনেক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। তারপরও দলের নীতিও আদর্শ থেকে পিছপা হননি। দলকে ভালোবেসে জীবনের বেশিরভাগ সময় দলের জন্য ব্যয় করেছেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির চরম দুঃসময়ে বলতে গেলে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে অনেকে বিএনপি ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে গোপনে বৈঠক করে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর চালিয়েছে অকথ্য নির্যাতন। অথচ মোমেন শিকদার দলকে ভালোবেসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের পক্ষে কাজ করে গেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার নানা প্রলোভন দেখানো হয় কিন্তু তিনি তার নীতিতে অটল থাকেন। কারণ তার রক্তমাংসে মিশে আছে বিএনপির আদর্শ।
আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিএনপিকে শক্তিশালী করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন নেতাকর্মীদেরকেও সাহস যুগিয়েছেন। দলের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এক সময় বলতে গেলে বিএনপি’র রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত নাম মোমেন সিকদার। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীদের সাথে গভীর সুসম্পর্ক রয়েছে মোমেন সিকদারের।
ত্রয়োদশ সংসদ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র পক্ষ থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয় জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে সমর্থন দেয়া হয়। দলের দিকনির্দেশনা মোতাবেক জুনায়েদ সাকিকে বিজয়ী করতে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেন মোমেন সিকদার।
সম্প্রতি একটি বিশেষমহল ফেইসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হন। যদিও এইসব ব্যাপারে মাথা ঘামান না তিনি। কারণ এলাকার মানুষ মোমেন শিকদারের বর্ণাঢ্য রাজনীতি সম্পর্কে অবগত আছেন।
আইয়ুবপুর ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে তার পদচারণা এবং সাধারণ শ্রমজীবী অসহায় মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে বেশ আন্তরিকতা ও সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে যে সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। আইযুবপুর ইউনিয়নের বিশেষ করে ১নং ওয়ার্ডের প্রতিটি মানুষকে মনে প্রাণে ভালোবাসেন। তারাও তাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন আর সেই কারণেই এখানকার মানুষ মোমেন সিকদারকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে যেই স্বপ্নের মধ্যে আছে একটি সুন্দর উন্নত ও সমৃদ্ধ ১নং ওয়ার্ড।
২০০৩ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট ছিল মোমেন সিকদারের। তারপরেও দলের স্বার্থে গ্রামের স্বার্থে জাহাঙ্গীর আলমকে চেয়ারম্যান রাখতে গিয়ে দশানির মনিরকে মেম্বার দিতে হয়। তারপর ২০১২ সালে ১নং ওয়ার্ডের জনগণ স্বপ্ন পূরণের জন্য তাকে বিপুল ভোটে মেম্বার পদে জয়যুক্ত করেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবারও আইয়ুবপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে নির্বাচন করবেন মোমেন সিকদার। তিনি ওয়ার্ডবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন।
আপনার মতামত লিখুন : :