• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

একজন ইউএনওর স্বপ্ন, একটি লাইব্রেরির পুনর্জন্ম স্বীকৃতি কোথায়?


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | সোহাইল আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম একজন ইউএনওর স্বপ্ন, একটি লাইব্রেরির পুনর্জন্ম স্বীকৃতি কোথায়?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাবলিক লাইব্রেরির পুনরুজ্জীবন এবং নামকরণকে ঘিরে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়াত সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরার অবদানকে কেন্দ্র করে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব হয়েছেন ছাত্রসমাজ ও সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর জন্য ছাত্রসমাজ, পাঠক মহল ও সাধারণ মানুষ তৎকালীন ইউএনও ফেরদৌস আরার কাছে আবেদন জানান। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে লাইব্রেরির সংস্কার ও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিয়মিত তদারকিতে লাইব্রেরির কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করে। তবে কাজ চলমান অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে লাইব্রেরির কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ছাত্রসমাজ ও পাঠক মহল পুনরায় লাইব্রেরির কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে সরব হয়। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আবুসাঈদ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান জানায়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করলে লাইব্রেরির কাজ আবারও গতি পায় এবং বর্তমানে এটি উদ্বোধনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এ ঘটনার মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে লাইব্রেরির নামকরণ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লাইব্রেরিটির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে “উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার”। কিন্তু এই নাম নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ছাত্রসমাজ ও সচেতন মহলের দাবি, একটি জনসেবামূলক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের নাম এমন হওয়া উচিত যা তার ইতিহাস, স্থানীয় পরিচয় এবং অবদানকে ধারণ করে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ লিখছেন যে কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা লাইব্রেরিকে পুনর্জীবিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলেন, তাঁর অবদান উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তাদের দাবি লাইব্রেরিটির নাম “ফেরদৌস আরা স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি” রাখা হোক। আর বিকল্প হিসেবে অন্তত “বাঞ্ছারামপুর পাবলিক লাইব্রেরি” নামটি রাখা উচিত বলে মত দিচ্ছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে লিখছেন, “যে মানুষের হাত ধরে একটি বন্ধ লাইব্রেরি নতুন জীবন পেল, তাঁর নাম বাদ দিয়ে প্রশাসনিক নাম দেওয়া ইতিহাসকে অস্বীকার করার শামিল।”
এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নামকরণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ও জনমতের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

Side banner 1 Side banner 2