• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

চলছে মেসি-এমবাপ্পে যুদ্ধ


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | ক্রীড়া ডেস্ক     জুন ২৩, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম চলছে মেসি-এমবাপ্পে যুদ্ধ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচ পড়ে যাওয়ার ঘটনাটা কি নিতান্তই কাকতালীয়! সে যা-ই হোক, দুই তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশ জমে উঠেছে। দুজনেই পাল্লা দিয়ে গোল করছেন। কখনো এগিয়ে যাচ্ছেন মেসি, কখনোবা এমবাপ্পে। এখন তাঁদের মধ্যে যে লড়াইটা যাচ্ছে, এক সময় রোনালদো নাজারিও-মিরোস্লাভ ক্লোসার মধ্যে দেখা যেত এমনই প্রতিযোগিতা।
রোনালদো-ক্লোসার কোন রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারার কথা। বিশেষ করে, যাঁরা ফুটবল ভক্ত ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন, তাঁদের এই প্রতিযোগিতার ব্যাপারে না জানার কোনো কারণ নেই। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে যে পরিমাণ রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা চলছে, তাতে পেছনে পড়েছেন ক্লোসা-রোনালদোরা। গত রাতে ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নেন মেসি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের গোল এখন ১৮। দুইয়ে থাকা ক্লোসার বিশ্বকাপে গোল ১৬। 


মেসি যেখানে শেষ করেছেন, কিলিয়ান এমবাপ্পের শুরু সেখানেই। ডালাস থেকে ২৩৫৭ কিলোমিটার দূরে ফিলাডেলফিয়ায় এমবাপ্পে জোড়া গোল করে ক্লোসার পাশে বসেছেন। বজ্রঝড়ের রাতে ইরাকের বিপক্ষে এমবাপ্পে দুই গোল করে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা হয়ে গেল ১৬। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে যৌথভাবে দুইয়ে ক্লোসা-এমবাপ্পে। ১৫ গোল করে তিনে ফেনোমেনোন রোনালদো।
১০০ বছর বয়সী এই নারী মেসি ভক্ত আসলে কে ১০০ বছর বয়সী এই নারী মেসি ভক্ত আসলে কে
মেসি সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার আগেই কিন্তু তাঁকে টপকে গিয়েছিলেন এমবাপ্পে। তাতে হয়তো অনেকের মনে হতে পারে, এমবাপ্পে হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেছিলেন। তবে ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। ১৬ জুন রাতে নিউইয়র্কে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের গোলসংখ্যা ১৪ বানিয়ে ফেলেছিলেন এমবাপ্পে। তখন মেসির গোল ছিল ১৩। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পর কানসাস সিটিতে মেসি হ্যাটট্রিক করায় বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা হয়ে গেল ১৬। আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ বাংলাদেশ সময় সকালে হলেও কানসাসের স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাতেই হয়েছিল এই ম্যাচ। মেসির ইতিহাস গড়ার দিনে নকআউটে আর্জেন্টিনামেসির ইতিহাস গড়ার দিনে নকআউটে আর্জেন্টিনা
১৬ গোল নিয়ে গত রাতে ডালাসে খেলতে নামা মেসির কাছে রেকর্ডটা নিজের করে নেওয়া ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু চ্যাম্পিয়নরা যে সহজে হার মানার পাত্র নন। ৩৮ মিনিট ও ৯০ মিনিটের পর ৫ মিনিটে দুটি জাদুকরী গোলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন।
ক্লোসা-রোনালদো অবসর নিয়েছেন আরও আগেই। ক্লোসা সবশেষ বিশ্বকাপ খেলেছেন ২০১৪ সালে। শেষটা তাঁর হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন হয়েই। ১২ বছর আগে মারাকানায় আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল জার্মানি। আর রোনালদো ২০০৬ বিশ্বকাপে শেষবারের মতো খেলেছেন। দুটি বিশ্বকাপও জিতেছেন তিনি। তবে মেসি-এমবাপ্পের গোলের ব্যবধান মাত্র ২ হওয়ায় তাঁদের লড়াইটা হবে উপভোগ করার মতোই।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে মেসির চেয়ে এমবাপ্পের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। যেখানে কানসাস সিটিতে ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর মেসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ২০৩০ বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কি না। আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড সরাসরি না করে দিয়েছেন। তবে এমবাপ্পের বয়স মাত্র ২৭। চোট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে এই বিশ্বকাপের পরও কমপক্ষে দুটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে। যদি ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তাহলে সংখ্যাটাকে বহুদূর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নিশ্চিতভাবেই করবেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
রেকর্ডটা লিওনেল মেসি গড়তে পারেন ১৭ জুন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে কানসাস সিটিতে সেদিন অফসাইডে গোল বাতিল হওয়া ছাড়াও তিনি আরও একটা গোল করেই ফেলেছিলেন। তবে আলজেরিয়ান গোলরক্ষক লুকা জিদান তা হতে দেননি। আর গতকাল এমন দিনে মেসি রেকর্ডটা গড়েছেন, যে দিনটা ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গডের’ ৪০ বছর পূর্তি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হয়েছিল ম্যারাডোনার সেই অবিস্মরণীয় গোল। গত রাতে মেসি বর্ষপূর্তির দিনই রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন।

Side banner 1 Side banner 2