নবীনগর উপজেলার শিক্ষানুরাগী ডাঃ আমজাদ হোসেন সাহেবের আদর্শের শিকড় থেকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে খ্যাতির নাম লিখিয়েছেন রত্নগর্ভা ফরিদা জামান পরিবার। আমজাদ হোসেনের ছোট ভাই, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কৃষি কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান মিয়ার সন্তানেরাও আজ মেধা আর দেশপ্রেমে একেকজন দিকপাল। ডাঃ আমজাদ হোসেনের আদর্শিক উত্তরাধিকার বহন করে তাঁরা আজ রাষ্ট্রের উচ্চাসনে আসীন।
এই পরিবারটি নিজ জন্মভূমি তথা নবীনগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এক আলোকিত পরিবার। রত্নাগর্ভার পরিবারের পাঁচ ভাই ও এক বোন।

১। সবার বড়োজন হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ প্রফেসর ডক্টর রফিকুজ্জামান। তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান ছিলেন।

২। মেজর জেনারেল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন জনাব মো. কামরুজ্জামান। তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক পরিচালক ও জাতিসংঘের মহাপরিচালকের মিলিটারি বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. কামরুজ্জামান, যিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক জিওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

৩। ডিআইজি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান চট্টগ্রাম র্যাঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগদান করে সততা ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার পরপর তিনি এআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তাঁর সহধর্মিণী ডিআইজি তাপতুন নাসরিন পিপিএম পদক পেয়েছেন।

৪। মোহাম্মদ সামসুজ্জান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
৫। মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করার পরপরই লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন মোহাম্মদ সাদেকুজ্জামান।
৬। ফেরদৌসী আক্তার পপি রত্নাগর্ভা ফরিদা জামান কলেজের প্রিন্সিপাল। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামল সাহেবের সহোদর বড়ো ভাইয়ের স্ত্রী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আলমনগর গ্রামের সেই ধুলোমাখা মেঠো পথ থেকে উঠে আসা একঝাঁক নক্ষত্র আজ দেশের আকাশে দীপ্যমান। সম্প্রতি ডিআইজি তাপতুন নাসরিন পিপিএম পদকে মনোনীত হয়েছেন।
এই গুণীজনদের ভিড়ে পরিবারের পুত্রবধূ হিসেবে সাফল্যের নতুন পালক যুক্ত করেছেন ডিআইজি তাপতুন নাসরিন। তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান এর সহধর্মিণী। নিজের মেধা ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যখন রাষ্ট্রীয় পিপিএম পদকে ভূষিত হন, তখন সেটি গোটা পরিবারের জন্য এক অসীম গর্বের মুর্হুত হয়ে দাঁড়ায়।
ডা. আমজাদ হোসেন সাহেব আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। তাঁর লাগানো সেই আদর্শের বৃক্ষ আজ ফল আর ছায়া দিয়ে ধন্য করছে পুরো দেশকে। ডাঃ আমজাদ হোসেন আমৃত্যু শিক্ষার ফেরি করেছেন, তিনি নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও নবীনগর ইচ্ছাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন, তিনি নবীনগর সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তাঁর নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। নবীনগর সদর থেকে আলমনগরের রাস্তা নির্মাণ করেন। বিনামূল্যে হাজার হাজার অসহায় পরিবারকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে মানব সেবায় সকলের নয়নের মণি হয়ে আছেন। তার গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একক অভিভাবক। গ্রামের লোকজন তাঁকে পীরের মতো মানতেন, তার কথা ছিলো আলমনগরের প্রতিটি মানুষের নিকট আদেশ ও সিদ্ধান্ত।
একজন ডা. আমজাদ হোসেন কেবল একজন চিকিৎসক ছিলেন না; তিনি ছিলেন নবীনগরের এক আলোকবর্তিকা। তিনি একাধারে পরিবার-আত্মীয়স্বজনের একজন আদর্শ ও দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে ছিলেন অনন্য। একইসাথে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলেও তাঁর বিচরণ ছিল সমানভাবে অনুকরণীয়। নবীনগরে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েতোলার পেছনের কারিগর তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বড় সন্তান ডা. আহমেদ হোসেন ফুলমিয়াকে সাথে নিয়ে রসুল্লাবাদ গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন চিকিৎসা ক্যাম্প। নিজের জীবন বাজী রেখে চিকিৎসা দিয়েছেন বহু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে। বিনিময় বাবা ছেলে কেউই গ্রহণ করেননি মুক্তিযোদ্ধা সনদ। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বহু রাজনীতিবিদের কাছেও ‘আমজাদ ডাক্তার’ ছিলেন এক অনুপ্রেরণার নাম ও আদর্শ।
উল্লেখ্য যে, আমজাদ ডাক্তারের নিজের ছেলে-মেয়ে ও নাতিরা আজ শিক্ষকতা, চিকিৎসাসেবা, সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের শিক্ষক হিসেবে দেশ-বিদেশে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে। কবিতার প্রতিটি চরণ যেন মিলে যায় ডাঃ আমজাদ হোসেন সাহেবের পরিবারের সাথে।
আপনার মতামত লিখুন : :