ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিলেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব। গত ১৫দিন যাবত ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকার শিক্ষানুরাগী সচেতনমহল স্কুলের মাঠে পশুর হাট না বসানোর আন্দোলন করে আসছে, সেখানে প্রধান শিক্ষক নিজেই ইজারাদার হওয়ায় পুরো উপজেলায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোপূর্বে এতিম শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাৎ করেও ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন তিনি।
কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের শোভারামপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব। তিনি দীর্ঘদিন যাবত আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে হাটবাজারের ইজারাদার হওয়ায় পুরো এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইয়ে যাচ্ছে।

আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সচেতন মহলের অনুরোধ উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের মাঠে গরু ছাগলের বাজার বসানোর অনুমতি দিয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন। সেই কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বেশকিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সচেতনমহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বলতে গেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসনের এহেন কর্মকাণ্ডে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ইজারাদার হওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) আসন্ন ঈদুল আযহা ২০২৬ উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ০৫.৪২.১২০৪.০০০.০০০.১৬.০০১.২৫-২৫৯নং স্মারকে দরপত্র আহবান করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। তবে অতীতে সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে গরু ছাগল বিক্রির উদ্দেশ্যে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৩০টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। গত বছর যেখানে ১৮টি অস্থায়ী পশুরহাট বসানো হয়েছিল। এবার বেড়ে হয়েছে ৩০টি। আর সেই কারণে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই পুরো উপজেলায় কানাঘুষা শুরু হয়। যদিও দরপত্রটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ডিএফপি তালিকাভুক্ত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কোন সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়নি।

স্কুলের মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট বা পশুর বাজার বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত করে এবং মলমূত্র ও গোবরের কারণে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করে। তাছাড়া পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। হাটের কোলাহল ও মাইকের শব্দে স্কুলের স্বাভাবিক ক্লাস পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শত শত গবাদিপশুর পায়ের আঘাতে মাঠের ঘাস নষ্ট হয় এবং মাটি দেবে গিয়ে এবড়োখেবড়ো হয়ে যায়। হাটের বর্জ্য ও মশা-মাছির উপদ্রব শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলার মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা তার সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি নেই। অথচ সেই কাজটিই করেছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা ও ইজারাদারদের খামখেয়ালীপনা, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানাবিধ কারণে আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গরু ছাগলের বাজার না বসানোর অনুরোধ করে আসছিল একটি মহল। অথচ সরকারের নামেমাত্র রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এবং একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতেই জনমতকে উপেক্ষা করে স্কুলের মাঠে গরু ছাগলের বাজার বসানোর অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন।
এখানেই শেষ নয়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব নিজেই হয়েছেন ইজারাদার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই স্কুলের মাঠে গরু ছাগলের বাজার বসাতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন। একই সাথে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিজের নামে ডাক নিয়েছেন। এতে ফুঁসে উঠেছে এলাকার সচেতনমহল।
উল্লেখ্য, আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে ওই গ্রামের সাবেক সচিব আজিজুল হক সাহেবের অবদান রয়েছে। বর্তমান জনপ্রশাসন সচিব এহসানুল হক ফারুকও বেশ অবদান রেখেছেন। এলাকার সচেতনমহল সরকারের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আপনার মতামত লিখুন : :