ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রতাপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সারা দেশের ন্যায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজ ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মেলায় আগত সেবাগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ সেবা বুথ স্থাপন করা হয়। বুথ থেকে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট দাগে জমির অস্তিত্ব ও প্রকৃত মালিকানা যাচাইসহ বিভিন্ন ভূমি বিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ সেবা প্রদান করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় অংশ নেন বাঞ্ছারামপুর এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব দুধ মিয়া বিএসসি। তিনি বলেন, “এ ধরনের ভূমি মেলা সাধারণ মানুষকে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করে। ভূমি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতাপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
তিনি বিশেষভাবে উপ-সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কমল রঞ্জন দাসের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা, পরামর্শ প্রদান এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রতি আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, ১৮তম বিশেষ ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন কমল রঞ্জন দাস।
এছাড়াও কমল রঞ্জন দাস বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের খোশকান্দি ও ভগনাথপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার ব্যতিক্রমধর্মী এ আশ্রয়ন প্রকল্পে ২১টি পরিবারের বসবাস রয়েছে। সুবিধাভোগীদের বিভিন্ন সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে এবং তাদের দোরগোড়ায় সহায়তা পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান।

মেলা সম্পর্কে কমল রঞ্জন দাস বলেন, “ভূমি মেলা একটি জনহিতকর আয়োজন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভূমি বিষয়ে সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। ভূমি উন্নয়ন কর সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস। তাই সবাইকে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।”
ভূমি মেলায় অংশগ্রহণ করেন বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক আহসান হাবিব, বাঞ্ছারামপুর বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. কামাল হোসেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, পেশাজীবী ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
তিন দিনব্যাপী এ ভূমি মেলা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভূমি সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সরকারের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন : :