• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাট ইজারা নিলেন শিক্ষক 


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার মে ২২, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাট ইজারা নিলেন শিক্ষক 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে বসানো অস্থায়ী পশুরহাটের ইজারা নিলেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক আফজালুর রহমান। তিনি ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই পবিত্র ঈদুল আজহায় “ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অস্থায়ী পশুরহাট” এর ডাক নিলেন। সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করে ঠিকাদারি কিংবা অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যের কোন সুযোগ না থাকলেও নিয়মবহির্ভূত সেই কাজটিই করেছেন সহকারি শিক্ষক আফজালুর রহমান।


মে মাসের শুরু থেকেই ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের মাঠে গরু ছাগলের হাট না বসানোর অনুরোধ করে আসছিল। অথচ বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন তা কর্ণপাতই করেনি। অস্থায়ী পশুরহাট হিসেবে ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কেই বেছে নিয়েছে এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে ওই স্কুলের একজন সহকারি শিক্ষককেই পশুরহাটের ইজারা দিয়েছে। এতে করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসনের বেশকিছু কর্মকর্তাদের নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ বলাবলি করছে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নিয়েই স্কুল শিক্ষককে পশুরহাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। 
ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন মরহুম কালু মিয়া মেম্বার। তারই সন্তান স্কুলের সহকারি শিক্ষক মো. আফজালুর রহমান। বর্তমানে এই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিও মরহুম কালু মেম্বারের ছেলে আশিকুর রহমান। অর্থাৎ স্কুলের মাঠে পশুরহাটের ইজারাদার সহকারি শিক্ষক আফজালুর রহমান ও আশিকুর রহমান আপন ভাই। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি যেন কালু মেম্বারের পারিবারিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ পেয়েছে। এমনিতেই স্কুলের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির ওরফে খাম হুমায়ুনের অযোগ্যতা অদক্ষতায় দিনে দিনে পড়াশুনার মান নিম্নমুখী হচ্ছে। 


ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্য স্কুলে গিয়ে ভর্তি হয়েছে। ফলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশিকুর রহমান এবং পশুরহাটের ইজারাদার সহকারি শিক্ষক আফজালুর রহমানের যোগসাজসেই গরু ছাগলের বাজার বসানো হয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে পশুরহাটের ইজারাদার হওয়ায় পুরো এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকের ইজারাদার হওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ তদন্তের দাবি করছে। 
বাংলাদেশ সরকারের এমপিওভুক্ত স্কুলের মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট বা পশুর বাজার বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত করে এবং মলমূত্র ও গোবরের কারণে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করে। তাছাড়া পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। হাটের কোলাহল ও মাইকের শব্দে স্কুলের স্বাভাবিক ক্লাস পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শত শত গবাদিপশুর পায়ের আঘাতে মাঠের ঘাস নষ্ট হয় এবং মাটি দেবে গিয়ে এবড়োখেবড়ো হয়ে যায়। হাটের বর্জ্য ও মশা-মাছির উপদ্রব শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। 
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলার মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা তার সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি নেই। অথচ সেই কাজটিই করেছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন। 
এদিকে বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা ও ইজারাদারদের খামখেয়ালীপনা, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানাবিধ কারণে ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গরু ছাগলের বাজার না বসানোর অনুরোধ করে আসছিল একটি মহল। অথচ সরকারের নামেমাত্র রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এবং একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতেই জনমতকে উপেক্ষা করে স্কুলের মাঠে গরু ছাগলের বাজার বসানোর অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। এতে ফুঁসে উঠেছে এলাকার সচেতনমহল।
ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকার সচেতনমহল সরকারের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ঈদ পরবর্তী সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। 

Side banner 1 Side banner 2