• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
বাঞ্ছারামপুরে

১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৮টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | ফয়ছল আহমেদ খান মে ৭, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম ১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৮টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য। খোদ বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে বাঞ্ছারামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ মাস যাবত প্রধান শিক্ষকবিহীন চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।
এতোগুলো স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকার ফলে ভারপ্রাপ্তদের ভারে নুয়ে পড়েছে এ উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো খালি থাকায় সহকারি শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এতে এক দিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ দান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ১৩৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যার মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে ‘প্রধান শিক্ষক’ আছে সমসংখ্যক সহকারি  শিক্ষক। অবসরপ্রাপ্ত ও বদলিজনিত  কারণে ২০১৭ সাল থেকে এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোন রকমে চলছে স্কুলগুলো। তখন থেকে চলতি দায়িত্ব প্রদানের পর থেকেই এ উপজেলায় আর কোন ধরনের পদোন্নতি হয়নি।


বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরেজমিনে বাঞ্ছারামপুর সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে অভিভাবকরা অভিযোগ করে জানান, প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য থাকায় এবং সহকারী শিক্ষকরা এর দায়িত্ব পালন করায় একদিকে যেমন প্রশাসনিক দুর্বলতা সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি সহকারী শিক্ষকের পদও খালি থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, ৭৪০ জন শিক্ষার্থী স্কুলটিতে। এক বছরের উপর প্রধান শিক্ষক নেই। মডেল স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, এটা ভাবা যায়?
পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাসিমা আলম বলেন, নিয়ম শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়েছে প্রধান শিক্ষক না থাকায়।
শিক্ষক, অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রায় দাপ্তরিক ও সরকারি বিভিন্ন কাজে উপজেলায় যাতায়াত করতে হয় ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। এছাড়া অন্য শিক্ষকরা সমমর্যাদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে দ্বিধা প্রকাশ করেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা বহুদিন যাবত প্রধান শিক্ষক সহ বিভিন্ন শূন্য আসনের সহকারী শিক্ষকের চাহিদার তালিকা প্রতি বছর জেলায়  পাঠাই। ফলাফল পাচ্ছি না।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সামসুল আলম আজ মুঠোফোনে বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ২২৮ জন শিক্ষক জেলায় যোগদান করবেন। সেখান থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী শিক্ষক পদায়ন করা হবে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

Side banner 1 Side banner 2