• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হলেন পরীক্ষার্থী

বাঞ্ছারামপুরে কেন্দ্র সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম বাঞ্ছারামপুরে কেন্দ্র সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে (বাঞ্ছা-৫) বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষায় এক শিক্ষাথীকে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেন্দ্র সচিব ও উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সূত্রধরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন।
শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে (বাঞ্ছা-৫) ৩টি বিদ্যালয়ের ২২৬জন এসএসসি পরিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এই কেন্দ্র থেকে  বাঞ্ছারামপুর এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার (রোল: ৩৭৭৩৮৭, রেজি: ২২১১১২৯১৪), ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থী। সে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষার প্রশ্নে দেওয়ার কথা থাকলেও গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ৫নং কক্ষের দায়িত্বরত শিক্ষক উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিহাব উদ্দিন ও রূপসদী জামিদা মনছুর উচ্চ বিদ্যালয়ের রফিকুল ইসলাম বাংলা ১ম পত্রের পরিক্ষায় তাকে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষার প্রশ্ন না দিয়ে ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেন। সে পুরাতন সিলেবাসের পরিক্ষার্থী বলার পরও তাকে নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন দেন।
নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত (শর্ট) সিলেবাসে পরীক্ষা দেওয়ার কথা। অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ বা তার পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা কেন্দ্র সচিব ও উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন। পরীক্ষার্থী সুমাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সুমাইয়া জানান, কক্ষ পর্যবেক্ষককে একাধিকবার জানাই যে আমি পুরাতন সিলেবাস (২০২৫) অনুযায়ী পরীক্ষার্থী। কিন্তু তারা আমার কথা উপেক্ষা করে নতুন (২০২৬) সিলেবাসের প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করে আমাকে। পরে বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুবেল স্যারের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।


বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান জানান, বিষয়টি জেনে আমি দ্রুত কেন্দ্র সচিবের সাথে যোগাযোগ করি। কেন্দ্র প্রধান উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সূত্রধর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেননি। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দিয়েই পরীক্ষা দেন সুমাইয়া।
দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিহাব উদ্দিন জানান, এই বিষয়ে আমি আপনার সাথে কোন কথা বলবনা, অফিস থেকে তথ্য নেন।
কেন্দ্র সচিব ও উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সূত্রধর জানান, বিষয়টি আমরা অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশোধনের চেষ্টা করছি। কীভাবে এই ভুলটি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষাবোর্ডে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে এমনটা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। কেন্দ্র সচিব উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Side banner 1 Side banner 2