ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন ফরদাবাদ। ৩,২৯৬ একর বা ১৩.৩৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ফরদাবাদ ইউনিয়নের গ্রাম হলো নিজকান্দি, গাওরাটুলি, তিলককান্দি, পূর্বহাটি, কলাকান্দি, চরলহনীয়া ও ফরদাবাদ। ইতোপূর্বে এই ইউনিয়ন রূপসদী পূর্ব ইউনিয়ন নামে পরিচিত ছিল। ফরদাবাদ ইউনিয়নের মোট ভোটার ২১ হাজার ১শত ৯৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৯শত ৩১ জন এবং মহিলা ভোটার ১০ হাজার ২শত ৬৭জন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দক্ষিণ পূর্বাংশে ফরদাবাদ ইউনিয়নের অবস্থান। এই ইউনিয়নের পশ্চিমে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন ও রূপসদী ইউনিয়ন; পূর্বে নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়ন, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়ন ও রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়ন অবস্থিত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের মতো ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম গা ঢাকা দেন। তিনি একাধিক মামলায় জড়িয়ে পড়েন। ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে ফরদাবাদ ইউনিয়নে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অলি আহাদ চৌধুরী।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ফরদাবাদে বর্তমানে সংরক্ষিত ১,২,৩নং ওয়ার্ডে মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সীমা আক্তার, ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডে হালিমা আক্তার এবং ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডে জোছনা বেগম।

এছাড়া ১নং ওয়ার্ডে সিদ্দিকুর রহমান, ২নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ মানিক মিয়া, ৩নং ওয়ার্ডে রুহুল আমীন, ৪নং ওয়ার্ডে মো. শফিকুল আলম হারুন মেম্বার, ৫নং ওয়ার্ডে আবদুল বাতেন, ৬নং ওয়ার্ডে মাজেদুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ডে আফজাল হোসেন, ৮নং ওয়ার্ডে সফিকুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ৯নং ওয়ার্ডের আলম মেম্বার মৃত্যুবরণ করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নানা কারণেই এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই আত্মগোপনে চলে যান। ফলে মাঠ এখন বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের দখলে। আর সেই কারণেই ফরদাবাদ ইউনিয়নে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয়পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণা চোখে পড়ার মতো।

বিগত সময়ে অনেক সাহস করেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন মো. সালাউদ্দিন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তিনি অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন ইয়াকুব মাস্টার, মাওলানা মোহাম্মদ আলী আজম, আবদুল হালিম, আবদুল করিম, স্বপন সিকদার, আবদুল কাইয়ুম, মো. মাকসুদ, মো. জসিমউদ্দিন প্রমুখ।

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মো. রাশিদুল ইসলাম। তিনি এখনও নিশ্চুপ। বলতে গেলে এলাকা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। এছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ, প্রশান্ত কুমার সাহা, আবদুল খালেক প্রধান, জাহাঙ্গীর আলম খান, মো. দেলোয়ার হোসেন সহ আরও অনেকেই চুপচাপ। দেশের বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না। তাছাড়া মামলা মোকদ্দমার কারণে এদের অনেকেই পলাতক। তবে এলাকায় নিয়মিত আসা যাওয়া করছেন মো. শাহিন লিটন। তিনিও বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এলাকায় একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত শাহিন লিটন। তবে নির্বাচন করবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ফরদাবাদ ইউনিয়নে অনেক প্রার্থী থাকলেও সরব উপস্থিতি মো. সালাউদ্দিনের। এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে তার বেশ সখ্যতা রয়েছে। তিনি ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

এদিকে মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে সীমা আক্তার, হালিমা বেগম, জোছনা বেগম, সিদ্দিকুর রহমান, মোহাম্মদ মানিক মিয়া, রুহুল আমীন, শফিকুল আলম হারুন, আবদুল বাতেন, মাজেদুল ইসলাম, আফজাল হোসেন, সফিকুল ইসলাম। তাছাড়া মেম্বার পদে প্রার্থী হতে পারেন মো. জামাল মিয়া, ইদ্রিস মিয়া, আবদুল করিম প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন : :