• ঢাকা
  • বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

বোনেদের সম্পত্তি ফাঁকি দেওয়ায় বড় শাস্তি পেলেন তিন ভাই


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার মে ৬, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম বোনেদের সম্পত্তি ফাঁকি দেওয়ায় বড় শাস্তি পেলেন তিন ভাই

মেহেরপুরের গাংনীর গাড়াবাড়ীয়া গ্রামে বোনেদের সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিন ভাইকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার অপর আসামি আরেক ভাই বর্তমানে ইংল্যান্ডে পলাতক।
মঙ্গলবার (৫ মে) গাংনী আমলী আদালতে হাজির হয়ে দুই ভাই জামিন চাইলে বিচারক নাসিম উদ্দিন ফারাজি তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে রবিার (৩ মে) রাতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন অপর এক ভাই।
কারাগারে যাওয়া তিন ভাই হলেন গাংনী উপজেলার গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত শামসুজ্জোহা বিশ্বাসের ছেলে সামসুল ইসলাম খোকন, ইমদাদুল হক ও হেলাল উদ্দিন। মামলার বাদী তাদের বোন আখতার বানু।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৪ মে তাদের মা মোজিরা খাতুন মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তির ন্যায্য অংশ পাওয়ার কথা ছিল তিন বোনের। কিন্তু চার ভাই যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে বোনদের অংশ গোপন রেখে নিজেদের মধ্যে ভুয়া দলিল তৈরি করে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেন এবং নামজারিও সম্পন্ন করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাদী গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের কপি সংগ্রহ করে আপত্তি জানান। প্রথমে আপসের আশ্বাস দিলেও পরে সম্পত্তি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান আসামিরা। এরপর আদালতে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ১১৩৫/২০২৪)।
আদালতের নির্দেশে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই কুষ্টিয়া মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুযায়ী ৬৬ শতক জমির মধ্যে চার ভাই প্রত্যেকে ১২ শতক এবং তিন বোন প্রত্যেকে ৬ শতক করে পাওয়ার কথা। কিন্তু আসামিরা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বোনদের প্রাপ্য অংশ আত্মসাৎ করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একই বিষয়ে মেহেরপুর পৌর ভূমি কর্মকর্তাও পৃথক প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত গত ২৭ এপ্রিল চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে এবং বাকি দুই ভাই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর হয়।
মামলায় বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এবং আসামিপক্ষে রফিকুল ইসলাম, পল্লব ভট্টাচার্য, মারুফ আহমেদ বিজন ও মোখলেসুর রহমান স্বপন দায়িত্ব পালন করেন।

Side banner 1 Side banner 2