দেশের সব বেসরকারি (নন-এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে ১২ দিনের সময়সীমা বেঁধে (আলটিমেটাম) দিয়েছেন শিক্ষকেরা। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৭ মে থেকে লাগাতার কর্মসূচি ও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের পক্ষে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিঞা।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ’ আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশ থেকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে ঈদের পর সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে ‘ডু অর ডাই’ কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও তাঁদের রয়েছে বলে শিক্ষক সমাবেশ থেকে জানানো হয়।
সম্মিলিত নন-এমপিওভুক্ত ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিঞা আজ সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের সময়ে মোট ৯০ দিন আমাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ছয় হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছি আমরা। বিভিন্ন সময়ে আমাদের আশ্বস্ত করলেও তা বাস্তবায়ন করেনি সরকার।’
সেলিম মিঞা আরও বলেন, ‘আগামী ১৬ মে পর্যন্ত আমরা সময় নির্ধারণ (আলটিমেটাম) করে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি আমাদের দাবি না মানা হয়, ১৭ মে থেকে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে শিক্ষকসমাজ নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হব। আমরা চাই, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাহী আদেশ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করুক।’
সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মনিমুল হক বলেন, ‘সরকার প্রাথমিকভাবে সচল প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করবে বলে আমরা আশাবাদী।’ প্রসঙ্গত, যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালু আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে সচল প্রতিষ্ঠান বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
দীর্ঘ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত সরকার এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই করে একটি তালিকা করেছিল। সেই তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে সংগঠনের নেতারা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এমপিওভুক্ত এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের স্থগিত আবেদনপ্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করতে হবে।
১১ বছর বিনা বেতনে পড়ানোর কথা উল্লেখ করে ঝিনাইদহ থেকে আসা ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক (অনার্স শাখা) মো. শরাফৎ হোসেন জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের খরচ জোগাতে হয়। বিনা বেতনে চাকরি করে আর কত দিন চলতে হবে প্রশ্ন করেন তিনি।
নন-এমপিও ডিগ্রি শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ ফারুক বলেন, ‘আমরা আর কত দিন এভাবে রাজপথে থাকব। আমাদের থাকার কথা পাঠদান কক্ষে। আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই। না হলে শিক্ষকসমাজ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ নাজমুছ সাহাদাত আজাদী, সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মনিমুল হক প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন : :