• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন নির্যাতিত তরুণী


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন নির্যাতিত তরুণী

একটু ভালো রোজগারের আশায় ঋণ করে কম্বোডিয়া গিয়েছিলেন এক বাংলাদেশি তরুণী। কিন্তু সেখানে দালালদের মাধ্যমে তিনবার হাতবদল হয়েছেন। শিকার হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের। ক্ষত নিয়ে গত বুধবার দেশে ফিরে এসেছেন তিনি। ওই তরুণী গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। এতে বাংলাদেশের তিন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা তাঁকে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের কাছে তুলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 
ঢাকায় ফেরার পর ওই তরুণীকে উত্তরায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে রাখা হয়। তবে একজন নিকটাত্মীয়ের অসুস্থতার কারণে গতকাল গ্রামের বাড়ি ফিরে যান তিনি।  
গত বুধবার রাতে কথা হয় ওই তরুণীর। তখন তিনি বলছিলেন, একটু সুস্থ হয়ে উঠি আপনাদের সবকিছু জানাব। আমার জীবন ওরা এলোমেলো করে দিয়েছে। পরিবার পাশে আছে বলে সাহস পাচ্ছি। আরও কিছু মানুষ সাহস জোগাচ্ছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি মাসে এক লাখ টাকা বেতনে কম্বোডিয়ার কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে চাকরি প্রলোভন দেখান রাজবাড়ীর খাগজানা এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল। এই চক্রে ছিলেন ফরিদপুরের মধুখালীর আনিসুর রহমান ও গাজীপুরের বেলাল হোসেন। ঋণের চক্রের ফাঁদে ফেলেই ওই তরুণীকে কম্বোডিয়া নেওয়া হয়। রুবেল এক সময় ফরিদপুরে একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। গ্রামে গ্রামে কিস্তি তুলতে গেলে রুবেলের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। এরপর তাঁর এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নেন তরুণী। কিস্তি বাকি পড়ায় রুবেল তাঁকে কম্বোডিয়ায় ভালো বেতনে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এক পর্যায়ে রুবেল বলেন, তাঁর পরিচিত মো. আনিসুর রহমান কম্বোডিয়ায় রয়েছেন। আনিসুরের মাধ্যমে তাঁকে সেখানে কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে এক লাখ টাকা বেতনে চাকরি দেওয়া যাবে। তবে কম্বোডিয়া যাওয়ার জন্য তাঁকে চার লাখ টাকা দিতে হবে।  
প্রথমে ওই নারীকে এনজিওটি থেকে এক লাখ টাকা ঋণ দেন রুবেল। বাকি টাকা পরে দিতে হবে বলে জানান। পরে ওই তরুণীর পাসপোর্টসহ এক লাখ টাকা নিয়ে কম্বোডিয়ায় থাকা আনিসুরকে দেন রুবেল। কম্বোডিয়া যাওয়ার সবকিছু প্রস্তুত করার কথা জানান আনিসুর এবং বাকি টাকার জন্য চাপ দেন। ধারদেনা করে আনিসুরের অ্যাকাউন্টে আরও দুই লাখ টাকা দেন ওই তরুণী। পরে রুবেল ওই তরুণীর বাড়ি গিয়ে আরও এক লাখ টাকা আদায় করেন। গত বছরের ১৮ আগস্ট কম্বোডিয়ায় যান ওই তরুণী। 
ওই তরুণী বলেন, কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পর সেখানে তাঁকে নিতে বিমানবন্দর আসেন রুবেল। এরপরই তরুণীর পাসপোর্ট ও ডলার জোর করে রুবেল তাঁর কাছে নেন। রুবেল তাঁর ভাড়া বাসায় ১০ দিন রেখে কলসেন্টারের কাজগুলো কীভাবে করতে হবে তা তরুণীকে শিখিয়ে দেন। এরপর একটি চায়না কোম্পানিতে তাঁকে এক হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। প্রথম মাসে কিছু ডলার পেলেও পরের মাসের বেতন নিয়ে যান আনিসুর। পরে সেই কোম্পানি থেকে তরুণীকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর আনিসুর আরেকটি কোম্পানিতে নিয়ে গিয়ে তাঁর সহযোগী বেলালের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তরুণীকে সেখানে মডেলিং করতে বলা হয়। এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে মানুষের সঙ্গে প্রতারণায় বাধ্য করে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে বাধ্য করা হয়। এই কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেশে ফেরত আসার কথা বললে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে তরুণী আরও উল্লেখ করেছেন, রুবেল ও আনিসুর তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এ কারণে পালিয়ে দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরত আসেন তিনি।
মামলার বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। 
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, গত জুন মাসে কম্বোডিয়া থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরত এসেছেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, কম্বোডিয়া থেকে ফেরত তরুণীকে ঘুরে দাঁড়াতে তারা সহযোগিতা করছেন।

Side banner 1 Side banner 2