• ঢাকা
  • শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

রূপসদী ইউনিয়নে জনমত জরিপে শীর্ষে মো. দেলোয়ার হোসেন 


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম রূপসদী ইউনিয়নে জনমত জরিপে শীর্ষে মো. দেলোয়ার হোসেন 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী ইউনিয়ন হলো রূপসদী। হোগলাকান্দি, খাউরপুর ও রূপসদী এই তিনটি গ্রাম নিয়েই রূপসদী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে অনেক চাকরিজীবী রয়েছে এই ইউনিয়নে। তাছাড়া রূপসদী ইউনিয়নের একটি বড় অংশ প্রবাসী। সবকিছু মিলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যে রূপসদী ইউনিয়ন বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এই ইউনিয়নের আয়তন ৩,২৯৭ একর বা ১৩.৩৪ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে রূপসদী ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০ হাজার ৯শত ১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৪শত ৯৪জন, মহিলা ভোটার ১০ হাজার ৪শত ২২জন। 


রূপসদী ইউনিয়ন পূর্বে রূপসদী পশ্চিম ইউনিয়ন নামে পরিচিত ছিল। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পূর্বাংশে রূপসদী ইউনিয়নের অবস্থান। এই ইউনিয়নের পশ্চিমে ও উত্তরে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন, পূর্বে ফরদাবাদ ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন অবস্থিত। 
এখানে সুজন স্মৃতি কলেজ, রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়, রূপসদী জামিদা মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী আবুল হাশেম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রূপসদী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রূপসদী দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রূপসদী পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রূপসদী পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রূপসদী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬টি কিন্ডার গার্টেন, ১টি ইংরেজি মাধ্যমের কিন্ডার গার্টেন, ১টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ, ১টি আলিয়া, ১টি ফাজিল ও ১টি দাখিল মাদ্রাসা আছে। তাছাড়া এই ইউনিয়নে ২টি বড় বাজার, ২টি দৈনন্দিন বাজার রয়েছে। সেই সাথে পুরো ইউনিয়নে ২০টি মসজিদ, ২টি মন্দির, ৫টি কবরস্থান, ৫টি ঈদগাহ, ৩টি ব্যাংক রয়েছে। 


এই ইউনিয়নে অগণিত প্রবাসী, চাকুরিজীবী, কৃষিজীবী, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, ১২ জন বিসিএস কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যাংকার ও সমাজকর্মী অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত করতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। হাতে বোনা তাঁত শিল্পের জন্য রূপসদী সারা দেশে পরিচিত ছিল। প্রায় ১০ হাজার মানুষ রূপসদীর তাঁত শিল্পের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। এখানে রূপসদী জমিদার বাড়ি সহ অনেক মসজিদ মন্দির ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশের অন্যতম সেরা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান মাহবুবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতাল এই ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে জন্ম নিয়েছে দেশ বরেণ্য অগণিত কৃতি সন্তান। সাবেক এমপি মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সুজন, জমিদার তীর্থবাসী চন্দ্র রায়, বাবু মহিম চন্দ্র রায়, অধ্যাত্মিক সাধক হযরত ফকির শাহ সুলতান আহমেদ জালালী, মোঙ্গল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস বিএসসি, সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ মিয়া, কালা মিয়া চেয়ারম্যান, কাদির মিয়া চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যাংকার মো. ফরিদ মিয়া প্রমুখ ব্যক্তির জন্ম হয়েছে রূপসদী ইউনিয়নের রূপসদী গ্রামে। 


ইউনিয়ন বাদে শুধু গ্রাম পর্যায়ে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশের মধ্যে একটি অন্যতম সেরা গ্রাম হল রূপসদী। এককথায় বলতে গেলে একটি আদর্শ গ্রাম বলতে যা বুঝায় তার সবকিছুই আছে এই রূপসদী গ্রামে। ফলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এই ইউনিয়নের মানুষ নতুন করে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে এই ইউনিয়ন পরিষদে কে হবে চেয়ারম্যান।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রূপসদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বেশ কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও জনমত জরিপে এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ১নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন। 


বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন রূপসদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া ঢাকা সিটি সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী মিরহাজীরবাগ সিএনজি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বাঞ্ছারামপুরের কৃতি সন্তান মো. দেলোয়ার হোসেন। তাছাড়া তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। মা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. দেলোয়ার হোসেন ব্যবসার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বেশ অবদান রেখেছেন। ফলে সবকিছু মিলে রূপসদী ইউনিয়ন পরিষদের একজন দক্ষ চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় র্শীষে রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন। হয়তো সেই কারণেই রূপসদী ইউনিয়নের হাট বাজার, অফিস, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং চা স্টল থেকে শুরু করে সর্বত্র একটাই আলোচনা-ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সকলের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি মো. দেলোয়ার হোসেন।


বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রূপসদী গ্রামের মাঝি বাড়ির সন্তান মো. দেলোয়ার হোসেন। মরহুম সিরাজুল ইসলামের তৃতীয় সন্তান দেলোয়ার হোসেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সংগ্রাম, জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ইউনিয়নবাসীর হৃদয়ে নিজেকে ঠাঁই করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তার মেধা, মনন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দক্ষতায় এই ইউনিয়নকে উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন, এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার লোকজন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের আমলে নানাভাবে নির্যাতিত ছিলেন। একাধিক মিথ্যা মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে এবং রাজনীতির কারণে জেলহাজতবাস করেছেন। তাছাড়া তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বছরের পর বছর তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। এতোকিছুর পরও দল থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। দলের নীতি ও আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করেই পথ চলেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার একনিষ্ঠ কর্মী দেলোয়ার হোসেন বিএনপির চেয়ারম্যান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা মোতাবেক পথ চলেছেন। রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। 
২০০৯ সালের পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়ন বিএনপির অনেক নেতাই আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলেছেন। অনেকে দলের নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। আর তখনও বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ দেলোয়ার হোসেন দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। দলের কঠিন দুঃসময়ে বলতে গেলে ২০০৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত রূপসদী ইউনিয়ন বিএনপিকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ২০১৬ সালে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন দেলোয়ার হোসেন। 
অভিযোগ রয়েছে, কারচুপির মাধ্যমে দেলোয়ার হোসেনকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরও তিনি থেমে থাকেননি। দলকে শক্তিশালী করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে গেছেন। একই সাথে নিজের সাধ্যমতো এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সংগ্রামী নেতা দেলোয়ার হোসেন রূপসদী ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থেকেছেন, ধর্মীয় কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখেছেন। 
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী দেলোয়ার হোসেন একজন স্বচ্ছ ও ক্লিন  ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি রূপসদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এই ইউনিয়নে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষ ন্যায় বিচার পাবে, এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন হবে, মাদক মুক্ত রূপসদী ইউনিয়ন গড়ে উঠবে-এমনটাই আশা করছেন এখানকার সাধারণ ভোটাররা। আর সেই কারণেই এখন পর্যন্ত এই ইউনিয়নে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অতীতের মতো কাজ করে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি রূপসদী ইউনিয়নবাসীর দোয়া কামনা করছেন।

Side banner