• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

এল সালভাদরে ২৯ হাজার মানুষকে হত্যার ঘটনায় গণবিচার শুরু


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | আন্তর্জাতিক ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম এল সালভাদরে ২৯ হাজার মানুষকে হত্যার ঘটনায় গণবিচার শুরু

মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরে শক্তিশালী অপরাধচক্র ‘মারা সালভাত্রুচার (এমএস-১৩)’ প্রায় ৫০০ সন্দেহভাজন সদস্যের বিরুদ্ধে গণবিচার শুরু হয়েছে। রাজধানী সান সালভাদরের আদালতে সোমবার (২০ এপ্রিল) শুরু হওয়া এই বিচারকে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় ফৌজদারি মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মোট ৪৮৬ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সংঘটিত প্রায় ৪৭ হাজার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৯ হাজার হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্তদের মধ্যে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব, মাঠপর্যায়ের নেতা, সমন্বয়ক এবং প্রতিষ্ঠাতারাও রয়েছেন।


২০২২ সালের মার্চ মাসে এক সপ্তাহান্তে ৮৭ জনকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে গ্যাং দমনে কঠোর অভিযান শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, সে সময় দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এর পরপরই জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার, যার আওতায় এখন পর্যন্ত ৯১ হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও এদের মধ্যে হাজারো মানুষ পরে নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সরকারের অভিযোগ, এমএস-১৩ একটি ‘সমান্তরাল রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল, তাই তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মামলাও করা হয়েছে। 
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হবে। বর্তমানে এসব মামলার শুনানি হচ্ছে গণবিচারের মাধ্যমে। অনেক অভিযুক্ত কারাগার থেকেই ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। বিচারকরা পরিচয় গোপন রেখে একসঙ্গে বহু আসামির বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছেন।


সরকার বলছে, এই কঠোর অভিযানের ফলে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এল সালভাদর এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।
তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং আঞ্চলিক সংগঠন ক্রিস্তোসাল এই গণবিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না; বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটক রাখা, নির্যাতন এবং কারাগারে শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে নির্দোষ ব্যক্তিরাও দোষীদের সঙ্গে শাস্তি পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর

Side banner 1 Side banner 2