• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
বাঞ্ছারামপুরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় টুইন পিট ল্যাট্রিন 

১০ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম ১০ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় “মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি” প্রকল্পের আওতায় উজানচর ইউনিয়নে গরীবের পায়খানা খ্যাত  টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমান ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
প্রকল্পের আওতায় পূর্বনির্ধারিত অনুমোদিত মূল্য ও উড ডিজাইন অনুযায়ী টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি ল্যাট্রিন নির্মাণের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা (ওয়াই জংশনসহ) এবং মোট ২২৯টি ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩২ টাকা। সেই হিসেবে ১৩ টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ১০ কোটি ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৫শ ১৬ টাকা ব্যয় হবার কথা।


জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর সঙ্গে কাজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। এমনকি কার্যাদেশ অনুযায়ী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশ থাকলেও সেটিও যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও নিম্নমানের রিং, স্ল্যাব ও পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া নিন্মমানের ইটের সুরকি, ভিটে বালু এবং রিং তৈরিতে নিম্নমানের তার ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মিত স্যানিটেশন সামগ্রীর আকারও সিডিউল অনুযায়ী না হওয়াসহ অসংখ্য অনিয়ম চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা সোমবার (২০ এপ্রিল) টয়লেট তৈরির জন্য আনা টিন হাত দিয়ে কাগজের মতো ছিঁড়ে ফেলে। হাত দিয়ে নিম্নমানের ইটের সুরকি গুড়ো করে ফেলে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কাজের গুণগত মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করা হোক।


উপজেলার ফরদাবাদ, দরিয়াদৌলত ও রূপসদী ইউনিয়নে একই প্রকল্পের কাজ অংশিক বাস্তবায়ন হলেও উপকারভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ৩-৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পক্ষে শহিদুল হক প্রধান নামে জনৈক ব্যক্তি মুঠোফোনে জানান, নিম্নমানের কাজ হলে তা আমরা ঠিক করে দিবো। এতে যদি আমাদের লস হয়, হউক।
প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৈাশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু সিয়াম বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ হচ্ছে বলে শুনেছি। আগামীকাল সরেজমিনে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করবো। আমরা এখনো পুরো বিল দেইনি।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি, তদন্তে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজে সরেজমিনে দেখে কথা বলবো।

Side banner 1 Side banner 2