ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা মো. মনির হোসেন। তিনি বাঁশগাড়ি গ্রামের আবদুল মান্নান মেম্বারের ছেলে। এই পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করেই সেই ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি করে আসছেন মনির হোসেন। তার বড় ভাই হাশেম শাহ ও ছোট ভাই গোলাম মোস্তফাও সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিশেষ করে ছোট ভাই এ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের পদধারী নেতা ছিলেন।
মনির হোসেনের পিতা আবদুল মান্নান মেম্বার এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। বাঁশগাড়ি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বড়বাড়ির গর্বিত সন্তান মনির হোসেন বিএনপির রাজনীতিতে একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। তিনি দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শের পথ ধরে রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আওয়ামী লীগের আমলে মনির হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই সময় তৎকালিন এমপি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম প্রশাসনের মাধ্যমে মনির হোসেনের বিজয় ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয়াবহ কারচুপি ও জবরদখলের কারণে ওই নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নানাভাবে হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হন মনির হোসেন। হামলা-মামলা ভয়ভীতি উপেক্ষা করেও দলকে শক্তিশালী করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যান তিনি। আর সেই কারণেই আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে এক অনন্য নাম মনির হোসেন।
রাজনীতির পাশাপাশি একজন সামাজিক মানুষ হিসেবেও পরিচিত তিনি। বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন। সমাজকল্যাণ মূলক উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন মানবিক নেতার মর্যাদা দিয়েছে।
আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, জনসংযোগ এবং ত্যাগী মনোভাবের কারণে মনির হোসেন আইয়ুবপুর ইউনিয়নসহ পুরো বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রাজনীতিতে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার নেতৃত্বে বিএনপির তৃণমূল আরও শক্তিশালী হবে-এমনটি আশা দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন, মনির হোসেনের নেতৃত্বে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি শুধু সংগঠনগত ভাবেই নয়, আদর্শিকভাবেও আরও শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করবে।
কয়েকজন নেতা দৃঢ়কণ্ঠে জানান, এখন তো আর নেতার অভাব নেই, অথচ ৫ তারিখের আগে দলের মিছিল মিটিং করার জন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না। আর তখনও মনির হোসেন নিজের অর্থ ব্যয় করে জীবনের উপর চরম ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ময়দানে বিএনপিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। একই সাথে দলের দিকনির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকেছেন। আর সেই কারণেই আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনির হোসেনকেই আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।
বিগত সময়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন মনির হোসেন। তখন বেশ কয়েকজনকে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার কথা বলেছিলেন কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ ও ভিপি আব্দুল মান্নান। আইয়ুবপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার সাহস করেনি কেউ। আর ঠিক তখনই মনির হোসেনের চাচাতো ভাই রকিব ও জনৈক ফুফাতো ভাইয়ের পরামর্শে ক্যাপ্টেন তাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সাহসের সাথে এগিয়ে যান তিনি। দুঃসময়ের ওইদিনে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ সরাসরি তাকে সহযোগিতা করেন। একইভাবে মরহুম ভিপি আবদুল মান্নান সার্বক্ষণিক মনির হোসেনকে নানা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন। কারচুপির মাধ্যমে মনির হোসেনকে হারিয়ে দেয়া হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে তার বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সকল নেতাদের সাথে মনির হোসেনের অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া মহল্লায় তার অবস্থান বেশ সুদৃঢ়। আগামীদিনে একটি সুন্দর আইয়ুবপুর ইউনিয়ন গড়তে বদ্ধ পরিকর মনির হোসেন। আর সেই লক্ষ্যেই তিনি এগিয়ে চলেছেন।
দল মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সকল জনগণের দোয়া কামনা করছেন মনির হোসেন।
আপনার মতামত লিখুন : :