• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
সেবা প্রার্থীরা ছুটছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

মনোহরগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম মনোহরগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে নিজ নিজ এলাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা। কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটছেন সেবাপ্রার্থীরা। গত ৬ মাস ধরে এমন বিড়ম্বনায় পড়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে গ্রামের মানুষরা স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। রোগীদের সুবিধার্থে প্রায় বাইশ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে এখান থেকে সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে ওষুধের সরবরাহ না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কিছুটা সংকট তৈরির কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। 
উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকার অন্তত দশজন বাসিন্দার সাথে হলে গত প্রায় ৬ মাস ধরেই এমন সংকট তৈরি হওয়ার কথা জানান তারা। ওষুধ না পেয়ে সরকারি এসব ক্লিনিক থেকে খালি হাতে ফিরছেন সেবা-প্রার্থীরা। সেবা-বঞ্চিত গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে ছুটছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। অনেকেই সামর্থ্য না থাকায় বাহিরে থেকেও ওষুধ কিনতে পারছেন না। অবিলম্বে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবী জানান তারা। 
উপজেলার ঝলম (দঃ) ইউপির নরহরিপুরের বাসিন্দা সাফায়েত হোসেন জানান, এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ না থাকায় প্রায় ৬ কি.মি. দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সেবা নিতে হয়। সেখানে যাতায়াতে আর্থিক কষ্টসহ নানা বিড়ম্বনায় পড়ার কথা জানান তিনি। এর প্রভাব পড়ছে গ্রামের নিরীহ, অসহায় ও গরীব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায়।
উপজেলার সিএইচসিপি এসোসিয়েশন সভাপতি ও মনিপুর কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কাজী আবু মঞ্জুর এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওষুধ সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে ৪ কার্টন ওষুধ পেয়েছেন। এরপর আর কোনো ওষুধ পাওয়া যায়নি। রোগীদের কিছু কমকম করে দিয়ে অন্তত: ২-৩ মাস এ ওষুধেই চালিয়েছেন। বর্তমানে ওষুধ সংকটে কাউন্সিলিং ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের মধ্যেই রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। তিনি বলেন গর্ভবতী রোগীসহ অন্যান্য সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পাঠানো হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল বাশার জানান, গত ছয়মাস ধরে এখানে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ দেয়া যাচ্ছে না। প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ বিতরণের কথা জানান তিনি। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তীর সাথে এ বিষয়ে কথা হলে পর্যাপ্ত সরবরাহ সংকটে রোগীদের সেবা প্রদানে সাময়িক অসুবিধায় পড়ার কথা জানান তিনি। সংকট নিরসনে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক-কে একাধিকবার চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। ওষুধ ছাড়াও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর চাহিদাও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে কিন্তু কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

Side banner