ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুরহাট ইজারার নামে বেশকিছু শিক্ষকদের নামে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এরা হলেন আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজারাদার মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব, ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. আফজালুর রহমান এবং ভুরভুরিয়া আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক পশুরহাটের ইজারাদার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম অভিযুক্ত শিক্ষকদের নামে অস্থায়ী পশুরহাটের ইজারা দেয়ায় পুরো এলাকায় তোলপাড় চলছে। তাছাড়া অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে গরু ছাগল বিক্রির উদ্দেশ্যে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৩০টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এখানেই শেষ নয়। সরকারি নিয়ম ভেঙ্গে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে অস্থায়ী পশুরহাট বসানো হয়েছে। এতে করে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৩০টি অস্থায়ী গরু ছাগলের বাজারের মধ্যে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ রয়েছে। এগুলো হলো ১। শাহরাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ২। ধারিয়ারচর নুরুল ইসলাম কলেজ ৩। চরছয়ানী মাদ্রাসা মাঠ ৪। আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় ৫। ফরদাবাদ ড. রওশন আলম কলেজ ৬। রূপসদী জামিদা মনসুর উচ্চ বিদ্যালয় ৭। হোগলাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮। ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ৯। ভুরভুরিয়া আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ ১০। দরিকান্দি বাড্ডা আছমাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১১। বাহেরচর কলেজ মাঠ।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ এখন গরু ছাগলের দখলে। বিগত সময়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গরু ছাগলের হাট না বসানোর জন্য এলাকার সচেতনমহল আন্দোলন করেছিল। অথচ বরাবরের মতো এবারও প্রশাসন জনমতকে আমলে নেয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে একশ্রেণীর ব্যক্তিরা উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে স্কুল-কলেজ মাঠে গরু-ছাগলের হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোরবানির বাজারের পর ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও মাঠ থেকে দুর্গন্ধ সরে না। পোকামাকড়, মশা-মাছি বেড়ে যায়। এগুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হলেও কোন লাভ হয় না। ইজারাদাররা নিজ খরচে কখনও এসব পরিস্কার করে না। বলতে গেলে ইজারাদারদের খুঁজেই পাওয়া যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষকদের ইজারাদার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও অলি আউলিয়ার দরবার শরীফকে পশুরহাটের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছিল। অথচ স্থানীয় প্রশাসন তা আমলে নেয়নি।
ঈদ পরবর্তী সময়ে উপজেলার সচেতনমহল শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন : :