মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়া এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা পিটিয়ে দুইজনকে হত্যা করেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরেকজন। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন জানান।
লাশ উদ্ধার হওয়া আট বছর বয়সী আতিকা ওই এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী দুদুল মিয়ার মেয়ে। শিশুটি বনপারিল দাখিল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের পিটুনিতে নিহত হয়েছেন একই এলাকার বাসিন্দা ও অটোচালক পান্নু মিয়া (৩৭) ও তার ভাই ফজলু (২৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুলকে (১৫) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে আতিকা নিখোঁজ হয়। পরে এলাকায় মাইকিং করে তার খোঁজ চালানো হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে।
ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয়রা এক পরিবারের তিনজনকে আটক করে মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই পান্নু মিয়া ও তার ভাই ফজলু নিহত হন। গুরুতর আহত হন নাজমুল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি ইকরাম হোসেন বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন : :