ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে “এ আর এগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত পামওয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে মোড়ক লাগিয়ে বোতলজাত ও অন্যের মোড়ক লাগিয়ে সরিষার তৈল বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ ভেজাল তেল জব্দ করা হয়। একই সাথে কয়েক হাজার লেবেল পুড়িয়ে ফেলা হয় ও বোতলজাতকরণের বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছলিমাবাদ গ্রামের মরহুম কালু মেম্বারের ছেলে আতিকুর রহমানের মালিকাধীন এ আর এগ্রো ফুডস প্রোডাক্ট নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পামওয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে বোতল জাত করে বাজারজাত করে আসছিল। একইসঙ্গে “মদিনা সরিষার তৈলের” নকল লোগো ব্যবহার করে সরিষার তেল বিক্রি করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বুধবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর ৫০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, কয়েক ড্রাম তৈল জব্দ করা হয়, প্রচুর লেবেল পুড়িয়ে ফেলা হয়।
অভিযানকালে কারখানায় মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ তেল, প্যাকেটজাত সামগ্রী এবং নকল লেবেল জব্দ করা হয়। এছাড়া কয়েক হাজার ভেজাল লেবেল তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত তেল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান) রফিকুল ইসলামের জিম্মায় দিয়ে তা পামওয়েল হিসেবে বিক্রির নিদেশ দেওয়া হয়। বোতলজাত করনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করে নিয়ে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা আসল সরিষার তেল মনে করে কিনতাম। এখন বুঝতে পারছি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে নিম্নমানের পামওয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম-লোগো নকল করে বাজারজাত করা গুরুতর অপরাধ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, কয়েক ড্রাম তৈল জব্দ করা হয়, প্রচুর পরিমাণে লেবেল পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন : :