• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বাঞ্ছারামপুর 


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | বা.বার্তা রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বাঞ্ছারামপুর 

স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী জুলাইয়ে শুরু করতে চায় সরকার। প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায়। দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে এ বছরের শেষের দিকে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা নির্বাচনের পরপরই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


তবে তারিখ কিংবা দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। ইতোমধ্যে পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। 


বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশির ভাগ প্রার্থীই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন।


বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জিসান সরকার, মানিকপুর গ্রামের রেমিটেন্স যোদ্ধা আলহাজ¦ মো. ফজলুল করিম। 


বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছে বাঞ্ছারামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালে মুসা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালালউদ্দিন বাদল, বাঞ্ছারামপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ফয়সাল বিন ইউসুফ সামি, পৌরসভার কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে মাহবুব হাসান বাবু, ২নং ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম সেন্টু, ৩নং ওয়ার্ডে মো. বাবুল মিয়া, ৪নং ওয়ার্ডে নাজের আলী, সাহাদাত সরকার, ৫নং ওয়ার্ডে সালাউদ্দিন আহমেদ বাসু, মো. মাহবুব, ৭নং ওয়ার্ডে হেলাল আহমেদ, ৯নং ওয়ার্ডে মো. বিল্লাল হোসেন, ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিল পদে পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বিউটি আক্তার।  


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তেজখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেন তেজখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. গাজী বাদল, তেজখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে মো. বিল্লাল হোসেন। সোনারামপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মমিনুল ইসলাম। ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জিসান রহমান (বিল্লাল), নিজাম উদ্দিন, জিয়াউর রহমান জিয়া, আরিফুল ইসলাম মিশন, মেম্বার পদে ৪নং ওয়ার্ডে মো. শাহজাহান সরকার, ৫নং ওয়ার্ডে কাজী শাহজালাল রেজভী।


রূপসদী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মুসা হায়দার, মো. দেলোয়ার হোসেন, মেম্বার পদে ৭নং ওয়ার্ডে মো. খাইরুল ইসলাম। বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে মো. সাইফুল সিকদার, মাইনউদ্দিন মাসুদ।
আইয়ুবপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আবদুর রব রাসেল, মো. শাহিন আহমেদ, মেম্বার পদে ৩নং ওয়ার্ডে মেহেদী হাসান সরকার, ৭নং ওয়ার্ডে বাবুল রানা। উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে সাজেদা বেগম।
১৩ নং মানিকপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু হানিফ, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, নুর মোহাম্মদ নাজিম, এইচ এম মোহাম্মদ আলী, ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে মো. জাকারিয়া, ৬নং ওয়ার্ডে এবাদুল্লাহ, ৮নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে মো. শাহজালাল।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর জনপ্রিয়তা থাকতে থাকতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় সরকার। সেই আলোকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে তাঁর আগে স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না, তা জাতীয় সংসদ থেকে চূড়ান্ত হতে হবে। তারপরই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে বলা আছে, কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পরিষদের প্রথম সভার পর থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২১ জুন। সেদিন প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেসব ইউনিয়নে এখন নির্বাচন করতে চায় সরকার।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে এখন ইউনিয়ন পরিষদ আছে ৪ হাজার ৫৮০টি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক ইউপি চেয়ারম্যান পালিয়ে যান। তখন ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ইউনিয়নে চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে চলে যান। তাঁরা আর অফিসে আসেননি। তাঁদের অনেকের নামে হত্যা মামলা হয়। বাকি তিন হাজারের কিছু বেশি ইউপি চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিস করছেন। যেসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত ছিলেন, সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আবার কোথাও চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করে আসছেন, কোথাও প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

Side banner