• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

কে হবে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার তৃতীয় মেয়র?


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | বা.বার্তা রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম কে হবে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার তৃতীয় মেয়র?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা ২০১৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় মোট ভোটার ২৫ হাজার ৫শত ২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৭শত ৬০ জন, মহিলা ভোটার ১২ হাজার ৭শত ৬৮ জন। মোট পরিবার প্রায় ৪ হাজার। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যাংশে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অবস্থান। এ পৌরসভার দক্ষিণে উজানচর ইউনিয়ন, পূর্বে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন, উত্তরে সোনারামপুর ও দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন ও বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন অবস্থিত।


বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাঞ্ছারামপুর উত্তর ইউনিয়নের বাঞ্ছারামপুর, দশদোনা, জগন্নাথপুর, দুর্গারামপুর, ভিটি ঝগড়ারচর, সফিরকান্দি, নতুনহাটি এবং দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের আছাদনগর গ্রাম নিয়ে এ পৌরসভা গঠিত হয়।


বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা একটি গ শ্রেণীর পৌরসভা ছিল। পরে গ শ্রেণী থেকে খ শ্রেণীতে উন্নীত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর ২ শাখা প্রজ্ঞাপনে উপ সচিব ফারজানা মান্নান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে গ শ্রেণী থেকে খ শ্রেণীতে উন্নীত হয়। ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা পায়। এই পৌরসভা জাতীয় সংসদের ২৪৮ নং নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ এর অংশ। পৌরসভাটি ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান মোল্লা টিপু। ২০১৫ সালের ১৫ জুন তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র পদে খলিলুর রহমান টিপু মোল্লা ‘জগ’ প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ২২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ভিপি তোফাজ্জল হোসেন কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৬০০ ভোট।


বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার দ্বিতীয় মেয়র ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি তোফাজ্জল হোসেন। দলীয় বিতর্কিত কাউন্সিলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভুঁইয়াকে ৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় একক প্রার্থী হয়েছিলেন তোফাজ্জল হোসেন। ষড়যন্ত্রের ওই কাউন্সিলে সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম ও তার ভাগিনা বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জাদিদ আল রহমান জনি চেয়ারম্যান তোফাজ্জলকে বিজয়ী করতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। দলীয় কাউন্সিলে বিজয়ী হতে তোফাজ্জল হোসেন মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 


২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ভিপি তফাজ্জল হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ওই নির্বাচনকে বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল বিএনপি। ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর রবিবার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল। একমাত্র তোফাজ্জল হোসেন ছাড়া আর কারও মনোনয়নপত্র জমা না হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে ওই সময় বিএনপির প্রার্থী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামিম শিবলীকে মনোনয়নপত্র জমাদানে বাঁধা প্রদান করা হয়েছিল। এমনকি শামিম শিবলীর বাড়ির সামনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া দিয়েছিল তৎকালিন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আর সেই কারণেই শামিম শিবলী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে তোফাজ্জল হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হয়েছিলেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে গা ঢাকা দেন মেয়র তোফাজ্জল হোসেন। ওই সময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সহায় সম্পদ লুটপাট করা হয়। তার নামে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়।  


বর্তমান বিএনপি সরকার আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পৌরসভার নির্বাচন করতে চায়। ইতোমধ্যে দেশের অনেক পৌরসভার মেয়াদই শেষ হয়ে গেছে। তারিখ কিংবা দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। ইতোমধ্যে পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। বিভিন্ন কৌশলে তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জনমত জরিপে প্রচার প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে গণসংহতি আন্দোলন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক শামিম শিবলী। পৌরসভায় তার অবস্থান বেশ সুদৃঢ়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফুল ইসলাম শরীফ মাস্টারের ছেলে। 


অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বাঞ্ছারামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালে মুসা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালালউদ্দিন বাদল, বাঞ্ছারামপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ফয়সাল বিন ইউসুফ সামি। এদের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালে মুসা ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। 


সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদে আলোচনায় আছে ১নং ওয়ার্ডে মাহবুব হাসান বাবু, ২নং ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম সেন্টু, ৩নং ওয়ার্ডে মো. বাবুল মিয়া, ৪নং ওয়ার্ডে নাজের আলী, সাহাদাত সরকার, ৫নং ওয়ার্ডে সালাউদ্দিন আহমেদ বাসু, মো. মাহবুব, ৭নং ওয়ার্ডে হেলাল আহমেদ, ৯নং ওয়ার্ডে মো. বিল্লাল হোসেন, ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিল পদে পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বিউটি আক্তার।


বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে (দশদোনা উত্তরপাড়া) ভোটার ২ হাজার ৫শত ১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ২শত ৭৮ জন, মহিলা ১ হাজার ২শত ৩৪ জন।
২নং ওয়ার্ডে (দশদোনা দক্ষিণপাড়া) মোট ভোটার ২ হাজার ২শত ৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ১শত ৪৯ জন, মহিলা ভোটার ১ হাজার ১শত ৮জন।
৩নং ওয়ার্ডে (জগন্নাথপুর) মোট ভোটার ৩ হাজার ২শত ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৬শত ৩০ জন, মহিলা ভোটার ১ হাজার ৬শত ২৯জন।
৪নং ওয়ার্ডে (বাঞ্ছারামপুর বড়বাড়ি, ভুঁইয়াবাড়ী, মনাবাড়ি, মোল্লাবাড়ি) মোট ভোটার ৪ হাজার ৮শত ৫জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৩শত ৭৫ জন, মহিলা ভোটার ২ হাজার ৪শত ৩০জন।


৫নং ওয়ার্ডে (বাঞ্ছারামপুর বাগেরহাটি, সফিরকান্দি, নতুনহাটি) মোট ভোটার ১ হাজার ৩শত ১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬শত ৯৩ জন, মহিলা ৬শত ২৫জন।
৬নং ওয়ার্ডে (বাঞ্ছারামপুর সাহাপাড়া, নমপাড়া, কান্দাপাড়া) মোট ভোটার ৩ হাজার ৮৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৬শত ১৮জন, মহিলা ভোটার ১ হাজার ৪শত ৭১জন।


৭নং ওয়ার্ডে (দুর্গারামপুর, টেকপাড়া, ভিটিঝগড়ারচর) মোট ভোটার ৩ হাজার ৮শত ৯৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৮শত ৯৫জন, মহিলা ভোটার ২ হাজার ৪জন। 
৮নং ওয়ার্ডে (আছাদনগর পূর্বপাড়া) মোট ভোটার ২ হাজার ১শত ২২জন এবং ৯নং ওয়ার্ডে (আছাদনগর পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণপাড়া) মোট ভোটার ২ হাজার ২শত ৬৭ জন।   

Side banner