• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ পরিস্থিতি চাপের মুখে 


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | ভ্রমণ ডেস্ক মার্চ ৬, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ পরিস্থিতি চাপের মুখে 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া এই সামরিক সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই; তা বিশ্বের আকাশপথ ও পর্যটনব্যবস্থাকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ কার্যত অচল। যার প্রভাব পড়েছে এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত। বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা সিরিয়ামের তথ্য বলছে, সংঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ৫৫ শতাংশের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এবং দোহার হামাদ ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এয়ারপোর্ট। দুটি বিমানবন্দরে ড্রোন ও মিসাইল হামলার আশঙ্কায় হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আট ঘণ্টার উড্ডয়ন দূরত্বের মধ্যে বাস করে। এই করিডর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমানগুলোকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে উত্তর কিংবা দক্ষিণ দিক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন খাতের ওপর চরম চাপ তৈরি করেছে। সংঘাতের আঁচ লেগেছে এক ডজনের বেশি দেশে। অনেকে জীবন বাঁচাতে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে সৌদি আরব বা ওমানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি পারস্য উপসাগরে থাকা প্রমোদতরিগুলোও হরমুজ প্রণালি পার হতে না পেরে মাঝসমুদ্রে আটকা পড়েছে।


সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুবাই ও আবুধাবিতে হামলার ঘটনার পর ফ্লাইট অপারেশন সীমিত করা হয়েছে। আমিরাত সরকার প্রায় ২০ হাজার আটকা পড়া যাত্রীর আবাসন ও খাবারের দায়িত্ব নিয়েছে।
কাতার ও ওমান: কাতারের আকাশপথ বন্ধ থাকায় দোহা বিমানবন্দর কার্যত অচল। অন্যদিকে, অনেক যাত্রী আমিরাত থেকে স্থলপথে ওমানে যাচ্ছেন বিকল্প ফ্লাইটের আশায়। তবে ওমানের দুকম বন্দরেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েল ও ইরান: উভয় দেশের আকাশপথ বেসামরিক চলাচলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ। ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর সীমিত পরিসরে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা শুধু উদ্ধারকাজের জন্য ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।
সৌদি আরব ও জর্ডান: সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান। রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর এখনো সচল থাকায় অনেকে সেখানে ভিড় করছেন। জর্ডানও রাতের বেলা তাদের আকাশপথ বন্ধ রাখছে।
সাইপ্রাস ও মিসর: ভূমধ্যসাগরের দেশ সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইউরোপে এই যুদ্ধের প্রথম আঁচ পৌঁছে দিয়েছে। মিসর সরাসরি আক্রান্ত না হলেও নিরাপত্তার খাতিরে মার্কিন নাগরিকদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা ও করণীয়
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা তাদের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করেছে; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ১৪টি দেশ থেকে তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে যেকোনো উপায়ে হোক, সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
স্বপ্রণোদিত বাতিল নয়: নিজের ইচ্ছায় টিকিট বাতিল করলে রিফান্ড পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই এয়ারলাইনস বা ট্রাভেল এজেন্টের পরামর্শের জন্য অপেক্ষা করুন।
যোগাযোগ বজায় রাখা: যাঁদের ফ্লাইট আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, তাঁরা সরাসরি এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
নিরাপদ আশ্রয়: কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের মতো দেশগুলোতে নাগরিকদের জন্য শেল্টার-ইন-প্লেস বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিমা যাচাই: আপনার ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স যুদ্ধ বা ফ্লাইট বাতিলের ক্ষতিপূরণ দেবে কি না, তা দ্রুত যাচাই করে নিন।
সূত্র: বিবিসি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

Side banner