• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

রাজধানীতে টিটন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম রাজধানীতে টিটন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সন্ত্রাসী চক্র জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। মোহাম্মদপুরের বসিলা পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলালের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান টিটন। সেই দ্বন্দ্বের মীমাংসার কথা বলেই গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় তাকে ডেকে আনা হয়। সেখানেই আগে থেকে ওতপেতে থাকা কিলার খুব কাছ থেকে গুলি করে টিটনকে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কোনো আকস্মিক হামলা ছিল না। পরিকল্পিতভাবে টিটনকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
মূলত কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার পর টিটন কোনো কাজ করতেন না। সম্প্রতি বসিলা হাট ইজারা নেওয়ার জন্য শিডিউল কিনেছিলেন। ওই এলাকার একক আধিপত্য কারাগার থেকে বের হওয়া ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীদের। তারাও ওই হাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। এই নিয়েই পিচ্ছি হেলাল ও তার সহযোগী কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনির সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
সেই দ্বন্দ্ব মীমাংসার কথা বলেই ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে টিটনকে নিউমার্কেটের বটতলায় ডেকে আনেন পিচ্চি হেলাল। টিটন সেখানে আসার আগে থেকেই তাকে হত্যার জন্য সেখানে মোটরসাইকেলে করে মুখে মাস্ক ও মাথায় টুপি পরে অপেক্ষায় থাকে শুটাররা। মোট চারজনই এই কিলিং মিশনে অংশ নেয়।
দুজন গুলি চালালেও বাকি দুজন অস্ত্র ও মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের নিরাপত্তায় ছিল। আর এই কিলিং মিশনের সমন্বয় করে বাদল ওরফে কাইলা বাদল। বাদল ছাড়াও এই হত্যাকাণ্ডে ওঠে এসেছে ভাঙ্গাড়ি রনি, শাহজাহানসহ পিচ্চি হেলালের আরও বেশ কয়েকজন সহযোগীর নাম। যাদের প্রত্যেকের কাছেই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র।
বাদল ও রনি গুলি কারার পর তাদেরকে মানুষ ধাওয়া দিলে বিডিআর ৩ নম্বর গেটের কাছে নিজের মোটরসাইকেল দিয়ে তাদের বের হতে সাহায্য করে শাহজাহান।
এদিকে টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় ৮/৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। 
মামলার এজাহারের বলা হয়, খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর ২০২৫ সালের ১৩ই আগস্ট আদালতের জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পায়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তার সঙ্গে আমার কথা হতো। দুইবার তিনি আমাদের বাড়ি যশোরেও যান।
এতে আরও বলা হয় গত ঈদে আমার সঙ্গে তার দেখাও হয়। কিছু দিন আগে সে আমাকে জানায়, একটা শিডিউল কিনছি ইনশাআল্লাহ মোটামুটি কাজের মাধ্যমে থাকতে পারব। গত ২৬শে এপ্রিল আমাকে আবারো ফোনে বলেন, আমার সঙ্গে ইমামুল হাসান হেলাল পিচ্চি হেলাল, কাইলা বাদল, শাজাহান, ভাঙ্গাড়ি রনিদের বছিলা গরুর হাটের ইজারার শিডিউল নিয়ে ঝামেলা চলছে। এরপর ২৭শে এপ্রিল আমাকে আবার বলে, তারা আমাকে ডেকেছে সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার জন্য। আশাকরি সব ঠিক হয়ে যাবে। এরই মধ্যে আমার কাছে খবর আসে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। টিটনের হত্যায় কারা জড়িত দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া, বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীরাই তাকে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পরই বিস্তারিত বলা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Side banner 1 Side banner 2