• ঢাকা
  • বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

বাঞ্ছারামপুরে ঘরে ঘরে চেয়ারম্যান প্রার্থী


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম বাঞ্ছারামপুরে ঘরে ঘরে চেয়ারম্যান প্রার্থী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম বিজয়ী হওয়ার পর রাতারাতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা গা ঢাকা দেন। তারপর জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রায় সবগুলো নির্বাচনেই বিএনপি শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে। দুঃসময়ের ওই দিনগুলোতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ নানা বাঁধা বিপত্তি, হামলা-মামলা মোকদ্দমা মোকাবেলা করে মাঠ পর্যায়ে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দিকনির্দেশনা মোতাবেক কাজ করেন। এমনকি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশ মতো বিভিন্ন নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেন। দুঃসময়ের ওইদিনগুলোতে অনেকেই প্রার্থী হতে চাইতেন না। আর সেই কারণে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নেতাকর্মীরাই বিজয়ী হয়েছিলেন। 


বিগত সময়ে ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম ও তার ভাগিনা জনি চেয়ারম্যানের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে বেশির ভাগ ইউনিয়নেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকে মেম্বারও হয়েছিলেন।


সেই কঠিন দিনগুলোতে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির অনেকেই চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার পদে নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেননি। অনেক ভয় বাঁধা বিপত্তি মোকাবেলা করে চেয়ারম্যান পদে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন দরিকান্দি ইউনিয়নে আবদুল করিম,

তেজখালী ইউনিয়নে আবদুর রাজ্জাক শিশু মিয়া, ছলিমাবাদ ইউনিয়নে বিল্লাল হোসেন, মানিকপুর ইউনিয়নে ফজলুল হক, ফরদাবাদ ইউনিয়নে মো. সালাউদ্দিন, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নে মো. শাহজাহান, রূপসদী ইউনিয়নে মো. দেলোয়ার হোসেন, আইয়ুবপুর ইউনিয়নে মো. মনির হোসেন, সোনারামপুর ইউনিয়নে মো. দেলোয়ার হোসেন এবং এস এম দেলোয়ার হোসেন। সেদিন ক্ষমতাসীন দলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এদের পাশাপাশি বিএনপির বেশ কয়েকজন মেম্বার পদে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। 


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর রাতারাতি গা ঢাকা দেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রায় সবগুলো ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। ফলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রার্থীর সংখ্যা এতো বেশি যে অতীতে সকল রেকর্ড ভেঙ্গেছে। বলতে গেলে উপজেলার প্রায় সবকটি গ্রামেই একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে। এখানেই শেষ নয়। অনেক পরিবারেও একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে।

যাদের অনেককে গত ১৭ বছর বাঞ্ছারামপুরে দেখা যায়নি। দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না, এমনকি অনেকে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে ব্যবসা বাণিজ্য করেছিলেন, তারাও এখন বিএনপির প্রার্থী। যদিও আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তারপরও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। বিভিন্ন কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।


এদিকে বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় প্রতীক ছাড়াই এই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন, যা বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।


গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। 


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও জানান, এতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, আবহাওয়া, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও মেরামত, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। তফসিল-পূর্ব প্রস্তুতির জন্য অন্তত ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন।


তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী পবিত্র ঈদুল আযহার পরপরই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

Side banner 1 Side banner 2