ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী ইউনিয়ন হলো রূপসদী। হোগলাকান্দি, খাউরপুর ও রূপসদী এই তিনটি গ্রাম নিয়েই রূপসদী ইউনিয়ন। বর্তমানে রূপসদী ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০ হাজার ৯শত ১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৪শত ৯৪জন, মহিলা ভোটার ১০ হাজার ৪শত ২২জন।

ইউনিয়ন বাদে শুধু গ্রাম পর্যায়ে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশের মধ্যে একটি অন্যতম সেরা গ্রাম হল রূপসদী। এককথায় বলতে গেলে একটি আদর্শ গ্রাম বলতে যা বুঝায় তার সবকিছুই আছে এই রূপসদী গ্রামে। ফলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এই ইউনিয়নের মানুষ নতুন করে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে এই ইউনিয়ন পরিষদে কে হবে চেয়ারম্যান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রায় সবগুলো চেয়ারম্যানই গা ঢাকা দেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা মতো এলাকায় অবস্থান করেছিলেন আওয়ামী লীগের আবদুল হাকিম চেয়ারম্যান। একপর্যায়ে তিনি মারধরের শিকার হন।

পরে ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালিন সরকারের সময় দেশের অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানের মতো আবদুল হাকিমও চেয়ারম্যানের পদ হারান। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন মো. বাক্কার মিয়া।

এই ইউনিয়নে ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সংরক্ষিত ১,২,৩নং ওয়ার্ডে হেনা আক্তার, ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডে সাহেরা বেগম, ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডে রেহেনা বেগম, ১নং ওয়ার্ডে মো. ফারুক মিয়া, ২নং ওয়ার্ডে মো. বাক্কার মিয়া, ৩নং ওয়ার্ডে মালেক মিয়া, ৪নং ওয়ার্ডে মো. কামাল মিয়া, ৫নং ওয়ার্ডে রবীন্দ্র দাস, ৬নং ওয়ার্ডে লাল মিয়া, ৭নং ওয়ার্ডে মিদন মিয়া, ৮নং ওয়ার্ডে সফিক মিয়া, ৯নং ওয়ার্ডে মহিউদ্দিন।

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রূপসদী ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ১নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও রূপসদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা আবদুল মতিন, সাবেক ছাত্রদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার বিল্লাল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস মেম্বার, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মুসা হায়দার, বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাক্কার মিয়া, গণসংহতি আন্দোলন নেতা কাশেম জাপানী, বিএনপি নেতা বদিউল আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হানিফ মাঝি, কৃষকদলের নেতা আবদুল আজিজ, বিএনপি নেতা মনিরুল হক।

এলাকায় বিএনপির সরব উপস্থিতি থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রায় নিশ্চুপ। বিগত সময় রূপসদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১০-১৫জন প্রার্থী থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোন সাড়া নেই। ফলে এই ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত, গণসংহতি আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক প্রার্থী হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। যদিও দলীয় প্রতীক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, দল মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে রূপসদী ইউনিয়নে জনমত জরিপে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন।
আপনার মতামত লিখুন : :