• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

বাঞ্ছারামপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন 


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম বাঞ্ছারামপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন 

বাঞ্ছারামপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদযাপন করা হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মোহাম্মদ শেখ ফরিদ, ইন্সট্রাক্টর। অনুষ্ঠানের শুরুতে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় একজন শিক্ষার্থী প্রথম স্থান, তিনজন দ্বিতীয় স্থান এবং তিনজন তৃতীয় স্থান অর্জন করে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা। এতে মোট ৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকমণ্ডলীর মাধ্যমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী নির্বাচন করা হয়।
পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। এতে মোট ১১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্য থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী নির্বাচন করা হয়।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মো: জাহিদুল ইসলাম, জু:ইন্স, মো: সালাহউদ্দিন, ইন্সট্রাক্টর,  মো. আব্দুল হালিম, ইন্সট্রাক্টর। প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ইনস্ট্রাক্টর (রসায়ন) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ইনস্ট্রাক্টর, মোহাম্মদ আবদুল হালিম, ইন্সট্রাক্টর  এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় প্রকাশ করলেই হবে না; তাঁর সুন্নাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পিতা-মাতা, শিক্ষক, বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রতিবেশীদের সম্মান করতে হবে। মিথ্যা, প্রতারণা, দুর্নীতি, গীবত ও অন্যায় থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী আমাদের জীবনে নিজেদেরকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে পরিবর্তন করার একটি সুযোগ। আমরা যদি সত্যিই রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ভালোবাসি, তাহলে তাঁর দেখানো পথে চলব। তিনি যেমন সত্যবাদী ছিলেন, আমরাও সত্যবাদী হব; তিনি যেমন ক্ষমাশীল ছিলেন, আমরাও ক্ষমাশীল হব এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব।”
বক্তব্যে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, মানবিক গুণাবলি ও জীবনাদর্শ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াত পাঠ করেন
ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামীন।
অর্থ: আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি। তিনি বলেন, এই আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো নির্দিষ্ট গোত্র, সমাজ বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়; বরং সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাই তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ ও শান্তির পথনির্দেশ করে।
এছাড়াও তিনি সহিহ বুখারির একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন
তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ হলো তাঁর আদর্শ ও সুন্নাহকে নিজের জীবনে ধারণ করা এবং তাঁর দেখানো পথে চলা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন, খন্ডকালীন ধর্মীয় শিক্ষক। 
পরিশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Side banner 1 Side banner 2