• ঢাকা
  • রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা ফিরে পেল শ্রীলঙ্কা


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | প্রবাস ডেস্ক জুলাই ৪, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা ফিরে পেল শ্রীলঙ্কা

শিল্প খাতের সার্বিক পুনরুদ্ধার, পর্যটন এবং আর্থিক সেবা খাতের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের ফলে শ্রীলঙ্কাকে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করেছে বিশ্বব্যাংক। শনিবার (৪ জুলাই) ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, ২০১৯ সালেও শ্রীলঙ্কা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মাথায় দেশটি সেই অবস্থান হারিয়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়।
বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ আয়-ভিত্তিক দেশীয় তালিকা অনুযায়ী, তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার পর পুরোপুরি দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর ঠিক তিন বছরের মাথায় এই গৌরবময় মর্যাদা ফিরে পেল দ্বীপরাষ্ট্রটি।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কাকে ‘‘ঘুরে দাঁড়ানোর অনন্য গল্প’’ হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়েছে, ‘‘২০২২ সালের তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে দেশটি যখন ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে, তার ঠিক তিন বছর পর ২০২৫ সালে এসে দেশটির প্রকৃত জিডিপি ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প খাতের ঘুরে দাঁড়ানো এবং আর্থিক ও পর্যটন সেবার প্রবৃদ্ধিই এই অগ্রগতিকে তরান্বিত করেছে।’’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘তালিকায় পুনরায় জায়গা পাওয়া শ্রীলঙ্কার ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় নিদর্শন। যদিও একেবারে সামান্য ব্যবধানে এই আয়ের সীমা অতিক্রম করতে পেরেছে দেশটি।’’
শ্রীলঙ্কার এই অর্থনৈতিক উত্তরণের পেছনে পর্যটন খাতের পুনরায় প্রাণ ফিরে পাওয়া, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেকর্ড রেমিট্যান্স, বৈদেশিক খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং টানা দুই বছরের মন্দা কাটিয়ে আবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ফেরার মতো বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রেখেছে।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উদ্যোগ, রাজস্বসংক্রান্ত সংস্কার, মুদ্রানীতির পরিবর্তন এবং বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশটি যে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, এই নতুন স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।
এর আগে, ২০১৯ সালে ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তীতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চরম ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে ২০২২ সালে দেশটি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হয়; যা তাদের অর্থনীতিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দেয়।
প্রতি বছর পূর্ববর্তী ক্যালেন্ডার বছরের মাথাপিছু স্থুল জাতীয় আয়ের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক বিশ্বের দেশগুলোকে চারটি আয়ের ক্যাটাগরিতে ভাগ করে থাকে। উচ্চ আয়, উচ্চ-মধ্যম আয়, নিম্ন-মধ্যম আয় এবং নিম্ন আয়। এই নতুন মাইলফলক সাম্প্রতিক আর্থিক সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর এক প্রতীকী স্বীকৃতি।
বিশ্বব্যাংকের চলতি বছরের এই তালিকায় বিশ্বের ২১৮টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যা ২০২৭ সালের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে কার্যকর থাকবে।
শ্রীলঙ্কা প্রথমবার ২০১৯ সালে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় নাম লেখালেও অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানামুখী চাপের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়ে এবং আয়ের স্তর নেমে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে আবারও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছিল।
সূত্র: দ্য হিন্দু।

Side banner 1 Side banner 2