সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এতে বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অর্থ বিভাগ গত বৃহস্পতিবার বেতনকাঠামোর গেজেট জারি করে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তা প্রকাশ করা হয়। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা দুই মাসের বাড়তি মূল বেতন বকেয়া হিসেবে পাবেন।
গেজেট অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন কাঠামোর বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ হার হবে যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ।
২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ মূল বেতন কার্যকর হবে। ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। নতুন কাঠামোয় মন্ত্রিপরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ বেতন আগে ছিল ৮৬ হাজার টাকা। জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার পদে বেতন ৮২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
গ্রেড-১-এ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার, গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার, গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ এবং গ্রেড-৫-এ ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
গ্রেড-৬ থেকে ১০ পর্যন্ত মূল বেতন যথাক্রমে ৭১ হাজার, ৫৮ হাজার, ৪৬ হাজার, ৪৪ হাজার ও ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নতুন মূল বেতন ২৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামোয় সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বাড়বে।
ফলে বর্তমানে ৯ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তির পেনশন হবে ১৮ হাজার টাকা। আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তির পেনশন নির্ধারিত হয়েছে ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্ধারিত পৌর এলাকায় এ হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। আর অন্যান্য এলাকায় ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাওয়া যাবে।
নতুন কাঠামোয় চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে তিন হাজার এবং ৫০ বছর এক দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত চার হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে। পেনশনভোগীদের বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত হবে।
এ ছাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাংলা নববর্ষ ভাতা ও বছরে দুইবার মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা টিফিন, শিক্ষা সহায়ক ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যাতায়াত ভাতাও পাবেন।
পদোন্নতি না হলে একই পদে আট বছর পূর্তিতে পরবর্তী উচ্চতর বেতন গ্রেড এবং এরপর নির্দিষ্ট শর্তে আরো একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন গত ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। আইনি যাচাই শেষে গেজেট প্রকাশ করা হলো।
আপনার মতামত লিখুন : :