ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বেতন ও ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু নিজের বেতনই নয়, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বিলেও তিনি নিজে স্বাক্ষর করছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্বে থাকলেও অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক নিয়মিতই ইউএনও’র কার্যালয়ে যান, বেতন-ভাতা বিভিন্ন বিল সংক্রান্ত কাজও সেখান থেকেই সম্পন্ন করছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মানুযায়ী কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ফরদাবাদ গ্রামে উত্তরপাড়ায় ১৯৮৭ সালে স্থানীয় মিজানুর রহমান ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় নামে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে গত জানুয়ারীতে ৮শত ৪৭ শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও পরিক্ষায় অংশ নেয় ৭২১জন, বাকিরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছেন। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১২ জন এমপিও শিক্ষক ও ৫জন খন্ডকালীন শিক্ষক ও ৬জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া গত বছরের ৬ আগস্ট থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন, কর্মস্থলে না আসলেও নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম বাবু জানান, প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া দীর্ঘদিন যাবত স্কুলে অনুপস্থিত আছেন, এটি নিয়ে আমি মিটিংয়ে কয়েকবার আলোচনা করেছি, স্কুলের খুব খারাপ অবস্থা, শিক্ষার্থী দিন দিন কমে যাচ্ছে, প্রধান শিক্ষক সাহেবের সাথে স্কুলে কোন সমস্যা নেই। স্কুলের এইসব কারণে না আমি গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে স্কুলে কোন মিটিংয়ে অংশ নিই না।
অভিভাবক কাউসার আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি যখন ইউএনও, তখন এমন অনিয়ম কীভাবে চলে? প্রধান শিক্ষক স্কুলে না এসে বছরের পর বছর বেতন নিচ্ছেন এটা এলাকাবাসীর সাথে তামাশা। আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। প্রধান শিক্ষক নাই, ক্লাসে শৃঙ্খলা নাই। অথচ বেতন তুলতে হলে তিনি নিয়মিত স্কুলে আসতে হবে।
ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার জানান, প্রধান শিক্ষক ফারুক স্যার গত বছরের পাঁচ আগস্ট এর পর থেকে স্কুলে আসেন না, বিদ্যালয়ের বেতন ভাতার বিভিন্ন বিলে স্যার ইউএনও স্যারের রুমে স্বাক্ষর করেন, স্যারের হাজিরা খাতা কিছুদিন আগে ইউএনও স্যার আমার কাছ থেকে নিয়েছেন কোন স্বাক্ষর নেই এখানে তার। শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের কাছ থেকে পাওয়া বেতন ও ভাতায়ও তিনি স্বাক্ষর করছেন, বিদ্যালয়ের মোবাইল ওনার কাছে এতে করে নানা সময় বিভিন্ন কাজে ওটিপি যায় উনার কাছে, উনার কাছ থেকে আনতে হয়। আমাদের বিদ্যালয় গত বছর ৯শতের বেশী স্টুডেন্ট ছিল এ বছর ৭শতের মত শিক্ষার্থী রয়েছে।
ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া জানান, আমি গত ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয় যাই না এটা সত্য, মাঝখানে একদিন গিয়েছিলাম; সমস্যা হওয়ার কারণে আর যাই না।
স্কুলে না গিয়ে বেতন তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সকল জায়গায় বিষয়টি জানিয়েছি। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি আমার কাছে টাকা দাবি করার কারণে আমি বিদ্যালয়ে যেতে পারছিনা নিরাপত্তাহীনতার কারণে। আমাকে ইউএনও স্যার বলেছে আপনি স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করে স্কুলে যান, কিন্তু আমি বিভিন্ন ব্যক্তিকে বলেছি আমাকে সহযোগিতা করতে, আমি তো জীবনে নিরাপত্তা না থাকলে কিভাবে যাই, আমি চেষ্টা করছি স্কুলে যাওয়ার জন্য, না পারলে বদলি চালু হলে আমি অন্য জায়গায় বদলী হয়ে চলে যাব।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক জানান, প্রধান শিক্ষক ফারুক সাহেব গত আগস্ট মাসের ৫ তারিখের পর থেকে বিদ্যালয়ে যান না, তবে তিনি বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, বিদ্যালয়ের লেনদেনের সকল কাজ উনার স্বাক্ষরিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে নানা রকম সমস্যা হচ্ছে সেটা আমরাও বুঝি। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয় চলে গেছেন এটা শুনেছি। এই বিষয়টা আমাদের ইউএনও স্যার ভালো বলতে পারবেন তিনি ওই স্কুলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামকে হোয়াটসএ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এই বিষয়টি আমার জানা নেই আমি খবর নিচ্ছি, খবর নিয়ে তারপর আমি বিষয়টা বলতে পারব।
আপনার মতামত লিখুন : :