• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
শিক্ষা অফিসারকে দায়ি করছেন এলাকাবাসী

বাঞ্ছারামপুরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কাঠের বাজার


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | বা.বার্তা রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম বাঞ্ছারামপুরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কাঠের বাজার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কাঠের বাজার বসিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে মাঠটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় বন্ধ হয়ে আছে শিক্ষার্থী ও এলাকার যুবকদের খেলাধুলা। এতে সামাজিক ও মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ছে উঠতি বয়সের কিশোররা। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের এলাকার তরুণদের খেলাধুলা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় অনেক কিশোর-তরুণ মোবাইল গেম, আড্ডা কিংবা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে কাঠের বাজার বসানো হয়। বাজারের দোকানদারদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। ফলে মাঠটি কার্যত খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 
অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় যুব সমাজের দাবি-অবিলম্বে স্কুল মাঠে কাঠের বাজার বন্ধ করে মাঠটি খেলার উপযোগী করতে হবে। নতুবা খেলাধুলার অভাবে উঠতি বয়সের ছেলেরা আরও বেশি করে মোবাইল আসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ঝুঁকবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম ফারুককে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই খেলার মাঠে কাঠের বাজারটি পরিচালনা করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই বাজারটি বন্ধ করা যাচ্ছে না। স্কুল পরিচালনা কমিটির জনৈক সদস্যের মাধ্যমে টাকা নিয়ে থাকেন গোলাম ফারুক, এমন অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন। 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের পাশে তিতাস নদীর পাড়ে হয়েছে বিদ্যালয়ের একটি মাঠ। স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এখানে শিক্ষার্থীরা ও এলাকার ছেলেরা নিয়মিত খেলাধুলা করে আসছিল, কিন্তু গত ২০০৪ সালে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি এই বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে কাঠের বাজার স্থাপন করে টাকা উত্তোলন শুরু করে। পর্যায়ক্রমে এই বাজারটি পুরো মাঠ দখল করে। প্রতি সোমবার হাট হলেও শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পুরো মাঠটি দখলে থাকে কাঠের ব্যবসায়ীদের, বাকি সময়টা কিছু অংশ খালি থাকলে সেখানেও খেলার অনুপযোগী হয়ে থাকে। খেলাধুলা করতে না পারায় শিক্ষার্থীরা মাঠের আশেপাশে বসে ও বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় বসে তাদের সময় পার করে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইন ও নানারকম গেইম খেলে সময় পার করে। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ খেলার মাঠের পুরো অংশ জুড়ে বাঁশ দিয়ে শতাধিক দোকান বসেছে কাঠের বাজারে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে কাঠ ও টিন এনে বিক্রি করছেন। এতে মাঠে স্তূপ করে রাখা কাঠ, যানবাহনের যাতায়াত এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে মাঠটি আর খেলাধুলার উপযোগী নেই। বিদ্যালয়ের দুইজন প্রতিনিধি এই সকল দোকান থেকে টাকা উওোলন করছেন। সোমবার দিন সাপ্তাহিক হাট হলেও শনিবার থেকে এখানে বেচাকেনা শুরু হয়, সারা বছর মাঠে বাঁশ দিয়ে কাঠ টিন রাখার নির্মাণ করা দোকান থাকে মাঠে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিসান আহম্মেদ জানান, মাঠে কাঠের বাজারের কারণে আমরা খেলাধুলা করতে পারিনা, অনেক বছর যাবত এই অবস্থা। খেলাধুলা না থাকলে কিশোর-তরুণরা সহজেই খারাপ পথে চলে যেতে পারে। মাঠটি যদি বাজারের জন্য ব্যবহার না করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য রাখা হতো, তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, একসময় এই মাঠে প্রতিদিন বিকেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় মেতে উঠত। কিন্তু বাজার বসানোর কারণে সেই পরিবেশ এখন আর নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত মাঠটি বাজারমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। এতে করে কিশোর-তরুণদের সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত হবে এবং তারা পড়াশোনা ও খেলাধুলায় মনোযোগী হতে পারবে।


বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শাহিন আহম্মেদ জানায়, আগে স্কুল শেষে আমরা মাঠে খেলাধুলা করতাম। এখন বাজার বসে থাকে, তাই খেলতে পারি না। এতে অনেকেই বাইরে গিয়ে আড্ডা দেয় বা মোবাইল নিয়ে সময় কাটায়। খেলাধুলা না থাকায় আমরা অনেকেই বিরক্ত হয়ে যাই। মাঠটা যদি আবার খেলার জন্য খুলে দেওয়া হতো তাহলে ভালো হতো।
অভিভাবক শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খেলাধুলা না থাকায় ছেলেরা সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে থাকে। এটা তাদের পড়াশোনা ও চরিত্র-দুটোই নষ্ট করছে। স্কুল মাঠ যদি বাজার হয়, তাহলে তারা খেলবে কোথায়? এই মাঠ এলাকায় একমাত্র বড় খেলার জায়গা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাঠের বাজার বসছে। এতে স্কুলের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
এলাকার কয়েকজন অভিভাবক ও বাসিন্দা জানান, খেলাধুলা না থাকলে কিশোর-তরুণরা সহজেই খারাপ পথে চলে যেতে পারে। মাঠটি যদি বাজারের জন্য ব্যবহার না করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য রাখা হতো, তাহলে এলাকার তরুণরা উপকৃত হতো।
এ বিষয়ে ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া বলেন, মাঠে কাঠের বাজার বসার বিষয়টি অনেকদিন ধরেই চলছে। বিদ্যালয়ের কিছু প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য বাজার থেকে কিছু অর্থ নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ভবিষ্যতে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে  উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলের খেলার মাঠে বাজার বসার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বা শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Side banner