চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরু করতে সরকার ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরু করা। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন একসঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
নির্বাচন শুরু হওয়ার পর সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভোট শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশন সময়সূচি নির্ধারণ করবে। তবে এই বছরের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি এখনও বহাল রয়েছে।
এদিকে তারিখ কিংবা দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। ইতোমধ্যে পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশির ভাগ প্রার্থীই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন।
বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬শত ৭৪জন। বিগত সময়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মানিকপুর গ্রামের আবদুল আউয়াল পিএসসি, দরিকান্দি গ্রামের ডক্টর এ ডব্লিউ এম আব্দুল হক, বুধাইরকান্দি গ্রামের আলহাজ¦ মো. দুধ মিয়া বিএসসি, দশদোনা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম এবং মানিকপুর গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম। এদের মধ্যে দশদোনা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাজধানী ঢাকায় নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন সিরাজুল ইসলাম। দীর্ঘদিন জেলখাটার পর বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। অন্যদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তাছাড়া স্থানীয় সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলামও জেলখানায় রয়েছেন। দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা এলাকা ছাড়া। ফলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রাজনৈতিক মাঠ পুরোপুরি বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। যদিও এখানকার বর্তমান এমপি গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তারপরও মাঠ পর্যায়ে এই দলের শক্ত কোন প্রার্থী নেই। তাছাড়া উপজেলা জামায়াত কিংবা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরও উল্লেখ করার মতো কোন প্রার্থী নেই। ফলে সবকিছু বিবেচনায় আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের কৃতি সন্তান কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। উচ্চ শিক্ষায় সুশিক্ষিত এই নেতা বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির চরম দুর্দিনে শক্তহাতে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির শতশত নেতাকর্মীদের মামলা মোকদ্দমা থেকে রক্ষা করেছেন তিনি। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের জেল থেকে জামিন করিয়েছেন। নিজের জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন।
আওয়ামী লীগের আমলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকদের একটি আলোচনায় তৎকালিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম আল মামুন সরকার দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের উপর অতর্কিত হামলা করেছিলেন। সেদিন কোনমতে নিজের জীবন বাঁচিয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া তার নিজ উপজেলা বাঞ্ছারামপুরেও নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। মিথ্যা মামলায় জেলও খেটেছেন। এতোকিছুর পরও দলকে শক্তভাবে নেতৃত্ব দিয়ে মাঠ পর্যায়ে ধরে রেখেছেন।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা গা ঢাকা দেন। তৃণমূলের নেতারা তখন অসহায় হয়ে পড়ে। ওই সময় প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান কৃষিবিদ পলাশ। তারপর ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। তখন সিনিয়র নেতাদের অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। ওই সময় বিএনপি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরও কোনঠাসা হয়ে পড়ে। দুঃসময়ের ওই দিনগুলোতে তৃণমূলের নেতারা আরও বিপদে পড়ে যায়। নিজের ব্যবসার আয়ের সমস্ত টাকা পয়সা কর্মীদের মাঝে বিলিয়ে দেন কৃষিবিদ পলাশ। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে। পরে কারচুপির অভিযোগ এনে ওই নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আর্থিকভাবে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী চরম দুরবস্থায় পড়ে। ওই সময়ও নিজের সর্বস্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন কৃষিবিদ পলাশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশকেই বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী। বলতে গেলে এখন পর্যন্ত তিনিই বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি থেকে একক প্রার্থী।
এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও ব্যাপক প্রচার প্রচারণা লক্ষ্যনীয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মুসা। কোন কারণে তিনি প্রার্থী না হলে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য, বাঞ্ছারামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছালে মুছা।
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা ২০১৩ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় মোট ভোটার ২৫ হাজার ৫শত ২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৭শত ৬০ জন, মহিলা ভোটার ১২ হাজার ৭শত ৬৮ জন। মোট পরিবার প্রায় ৪ হাজার। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যাংশে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অবস্থান। এ পৌরসভার দক্ষিণে উজানচর ইউনিয়ন, পূর্বে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন, উত্তরে সোনারামপুর ও দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন ও বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন অবস্থিত।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাঞ্ছারামপুর উত্তর ইউনিয়নের বাঞ্ছারামপুর, দশদোনা, জগন্নাথপুর, দুর্গারামপুর, ভিটি ঝগড়ারচর, সফিরকান্দি, নতুনহাটি এবং দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের আছাদনগর গ্রাম নিয়ে এ পৌরসভা গঠিত হয়।
পৌরসভার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, পৌরসভাটি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। ওই সময় মাত্র ৩২ হাজার ১০৫ জন পৌর নাগরিক ছিলেন। দিনে দিনে বেড়েছে এর আয়তন, বেড়েছে এর জনসংখ্যাও। ‘খ’ শ্রেণীর এ পৌরসভা বর্তমানে ১৬ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে। বর্তমানে ৯ টি ওয়ার্ডের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করছে।
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান মোল্লা টিপু। ২০১৫ সালের ১৫ জুন তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র পদে খলিলুর রহমান টিপু মোল্লা ‘জগ’ প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ২২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ভিপি তোফাজ্জল হোসেন কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৬০০ ভোট।
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার দ্বিতীয় মেয়র ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি তোফাজ্জল হোসেন। দলীয় বিতর্কিত কাউন্সিলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভুঁইয়াকে ৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় একক প্রার্থী হয়েছিলেন তোফাজ্জল হোসেন। ষড়যন্ত্রের ওই কাউন্সিলে সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম ও তার ভাগিনা বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জাদিদ আল রহমান জনি চেয়ারম্যান তোফাজ্জলকে বিজয়ী করতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। দলীয় কাউন্সিলে বিজয়ী হতে তোফাজ্জল হোসেন মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ভিপি তফাজ্জল হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ওই নির্বাচনকে বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল বিএনপি। ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর রবিবার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল। একমাত্র তোফাজ্জল হোসেন ছাড়া আর কারও মনোনয়নপত্র জমা না হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় বিএনপির প্রার্থী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামিম শিবলীকে মনোনয়নপত্র জমাদানে বাঁধা প্রদান করা হয়েছিল। এমনকি শামিম শিবলীর বাড়ির সামনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া দিয়েছিল তৎকালিন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আর সেই কারণেই শামিম শিবলী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে তোফাজ্জল হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে গা ঢাকা দেন মেয়র তোফাজ্জল হোসেন। ওই সময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সহায় সম্পদ লুটপাট করা হয়। তার নামে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাছাড়া মেয়র পদে আওয়ামী লীগের অন্যান্য প্রার্থীরাও পলাতক রয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগ শুন্য বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার মাঠ বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। দলের একক প্রার্থী হলে বিজয় সুনিশ্চিত। তাছাড়া বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় জামায়াতের কোন প্রার্থীর উপস্থিতি এখনও চোখে পড়েনি।
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদে আলোচনায় আছে ১নং ওয়ার্ডে মাহবুব হাসান বাবু, ২নং ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম সেন্টু, ৪নং ওয়ার্ডে নাজির হোসেন, ৫নং ওয়ার্ডে সালাউদ্দিন আহমেদ বাসু, মো. মাহবুব, ৭নং ওয়ার্ডে হেলাল আহমেদ, ৯নং ওয়ার্ডে মো. বিল্লাল হোসেন, ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিল পদে পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বিউটি আক্তার।
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে (দশদোনা উত্তরপাড়া) ভোটার ২ হাজার ৫শত ১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ২শত ৭৮ জন, মহিলা ১ হাজার ২শত ৩৪ জন। ২নং ওয়ার্ডে (দশদোনা দক্ষিণপাড়া) মোট ভোটার ২ হাজার ২শত ৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ১শত ৪৯ জন, মহিলা ভোটার ১ হাজার ১শত ৮জন। ৩নং ওয়ার্ডে (জগন্নাথপুর) মোট ভোটার ৩ হাজার ২শত ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৬শত ৩০ জন, মহিলা ভোটার ১ হাজার ৬শত ২৯জন। ৪নং ওয়ার্ডে (বাঞ্ছারামপুর বড়বাড়ি, ভুঁইয়াবাড়ী, মনাবাড়ি, মোল্লাবাড়ি) মোট ভোটার ৪ হাজার ৮শত ৫জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৩শত ৭৫ জন, মহিলা ভোটার ২ হাজার ৪শত ৩০জন। ৫নং ওয়ার্ডে (বাঞ্ছারামপুর বাগেরহাটি, সফিরকান্দি, নতুনহাটি) মোট ভোটার ১ হাজার ৩শত ১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬শত ৯৩ জন, মহিলা ৬শত ২৫জন। ৬নং ওয়ার্ডে (বাঞ্ছারামপুর সাহাপাড়া, নমপাড়া, কান্দাপাড়া) মোট ভোটার ৩ হাজার ৮৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৬শত ১৮জন, মহিলা ভোটার ১ হাজার ৪শত ৭১জন। ৭নং ওয়ার্ডে (দুর্গারামপুর, টেকপাড়া, ভিটিঝগড়ারচর) মোট ভোটার ৩ হাজার ৮শত ৯৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৮শত ৯৫জন, মহিলা ভোটার ২ হাজার ৪জন। ৮নং ওয়ার্ডে (আছাদনগর পূর্বপাড়া) মোট ভোটার ২ হাজার ১শত ২২জন এবং ৯নং ওয়ার্ডে (আছাদনগর পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণপাড়া) মোট ভোটার ২ হাজার ২শত ৬৭ জন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। বিগত সময়ে ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম ও তার ভাগিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জাদিদ আল রহমান জনির সরাসরি হস্তক্ষেপে ১০টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে তেজখালী ইউনিয়নে তৎকালিন প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাবেক চেয়ারম্যান গাজী ফাইজুর রহমান ফাজিলকে নানাবিধ হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম শহীদুল হক বাবুল নানাকে বিজয়ী করেন। বর্তমানে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ছাড়া বাকি সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। ফলে মাঠ পর্যায়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নেই বিএনপির একক আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। কয়েকটি ইউনিয়নে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন এবং গণসংহতির প্রার্থীরাও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তেজখালী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. সফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবদুর রাজ্জাক শিশু মিয়া। এলাকায় সফিকুল ইসলাম একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে শিশু মিয়া সাবেক এমপি আব্দুল খালেক পিএসসির ছোট ভাই। তিনি বিগত সময়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।
পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সবুজ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল্লাহ। দুজনই প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া এখানে প্রার্থী হবেন সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল গণি তালুকদারের ছেলে আনোয়ার হোসেন পিন্টু তালুকদার। বিগত সময়ে এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ছিলেন গাজীউর রহমান। বর্তমানে গাজীউর রহমান এলাকা ছাড়া।
দরিয়াদৌলত ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন মো. আলমগীর হোসেন। তিনি দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এছাড়াও তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোনারামপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন শান্তিপুর গ্রামের মো. মোমেন মিয়া। তিনি প্রবাসী বিএনপির নেতা এবং সৌদিআরবের মদিনা শহরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সৌদিআরবে গেলে তিনি যথেষ্ঠ সহযোগিতা করে থাকেন। তাছাড়া সোনারামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিবেদিতপ্রাণ।
দরিকান্দি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল করিম। জনমত জরিপে তিনি বেশ এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই ইউনিয়নে আবারও নির্বাচন করার ঘোষণা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা, সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম স্বপন।
ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন ওমর ফারুক সুমন। ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী ওমর ফারুক সুমন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও অগ্রগতির পাশাপাশি ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত হবে, এমনটাই জানিয়েছে এখানকার সাধারণ মানুষ। তিনি ছাড়াও এই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ফতেহপুর গ্রামে জিশান বিল্লাল।
বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম মেম্বার। বর্তমানে তিনি এই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আইয়ুবপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন মো. সাইদুর রহমান। তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সাইদুর রহমান সাইদুর ঢাকাস্থ বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রছাত্রী মৈত্রী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন যুবদল নেতা বাঁশগাড়ি গ্রামের মো. মনির হোসেন এবং দশানীর এ কে এম ফজলুল হক স্বপন।
ফরদাবাদ ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি বোরহানউদ্দিন আহমেদ এবং উপজেলা বিএনপির ত্রাণ ও র্দূযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. আল আমিন।
রূপসদী ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন। এই ইউনিয়নে জনমত জরিপে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন মো. দেলোয়ার হোসেন। বলতে গেলে তিনি এই ইউনিয়নে অপ্রতিদ্বন্দ্বি। এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে তার রয়েছে গভীর সম্পর্ক।
ছলিমাবাদ ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. বাবুল মিয়া। তিনি একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। বিগত সময়ে এই ইউনিয়নে অনেক বিএনপির নেতা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চললেও বাবুল মিয়া ছিলেন তার নীতিতে অটল। উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন ছলিমাবাদের সাধারণ জনগণ বাবুল মিয়াকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়, এমনটাই অভিমত সাধারণ মানুষের।
উজানচর ইউনিয়নে বিএনপির একক প্রার্থী হতে পারেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন। জনমত জরিপে তিনি বেশ এগিয়ে আছেন। এছাড়া মানিকপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন আনোয়ার চৌধুরী। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আপনার মতামত লিখুন : :