ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬শত ৭৪জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ২শত ৬২জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ৪শত ১১জন। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার ছলিমাবাদ ইউনিয়নে এবং সবচেয়ে কম ভোটার বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নে।

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে বাঞ্ছারামপুর। বলতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের পদচারণায় পুরো উপজেলা মুখরিত। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি গা ঢাকা দেন উপজেলার বেশিরভাগ ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতারা। মাঠ দখলে যায় বিএনপির। সেই সাথে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জামায়াতের নেতারাও প্রকাশ্যে আসে। একই সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদেরও মাঠে সরব উপস্থিতি। ফলে সবকিছু বিবেচনায় বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, এনসিপির নেতাকর্মীদের পদচারণা চোখে পড়ার মতো। এছাড়া কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিরাও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম বিজয়ী হওয়ার পর রাতারাতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা গা ঢাকা দেন। তারপর জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রায় সবগুলো নির্বাচনেই বিএনপি শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে। দুঃসময়ের ওই দিনগুলোতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ নানা বাঁধা বিপত্তি, হামলা-মামলা মোকদ্দমা মোকাবেলা করে মাঠ পর্যায়ে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দিকনির্দেশনা মোতাবেক কাজ করেন। এমনকি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশ মতো বিভিন্ন নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেন। দুঃসময়ের ওইদিনগুলোতে অনেকেই প্রার্থী হতে চাইতেন না। আর সেই কারণে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নেতাকর্মীরাই বিজয়ী হয়েছিলেন। উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়নে বিনা ভোটেই অনেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমনকি অনেকে বিনা ভোটে মেম্বারও নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম এবং তার ভাগিনা জনি চেয়ারম্যানের সরাসরি হস্তক্ষেপে ওইসব বিতর্কিত নির্বাচনে অনেকে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সেই কঠিন দিনগুলোতে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির অনেকেই চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার পদে নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেননি। অনেক ভয় বাঁধা বিপত্তি মোকাবেলা করে চেয়ারম্যান পদে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন দরিকান্দি ইউনিয়নে আবদুল করিম, তেজখালী ইউনিয়নে আবদুর রাজ্জাক শিশু মিয়া, ছলিমাবাদ ইউনিয়নে বিল্লাল হোসেন, মানিকপুর ইউনিয়নে ফজলুল হক, ফরদাবাদ ইউনিয়নে মো. সালাউদ্দিন, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নে মো. শাহজাহান, রূপসদী ইউনিয়নে মো. দেলোয়ার হোসেন, আইয়ুবপুর ইউনিয়নে মো. মনির হোসেন, সোনারামপুর ইউনিয়নে মো. দেলোয়ার হোসেন এবং এস এম দেলোয়ার হোসেন। সেদিন ক্ষমতাসীন দলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এদের পাশাপাশি বিএনপির বেশ কয়েকজন মেম্বার পদে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।
আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে তেজখালী ইউনিয়নে আবদুর রাজ্জাক শিশু মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান গাজী ফাইজুর রহমান, মো. খবির উদ্দিন।

পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়ন থেকে গাজীউর রহমান, আনোয়ার হোসেন তালুকদার পিন্টু, মো. জাকির হোসেন, পায়েল তালুকদার, মো. বাদল তালুকদার।
দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মামুন, হানিফ মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম রিপন, এ বি এম মাহবুবুর রহমান উজ্জ্বল, এ্যাডভোকেট জিয়াউল হক বাদল, মো. উজ্জ্বল, মো. হাবিব উল্লাহ, সাইদ আহমেদ বাবু।

সোনারামপুর ইউনিয়ন থেকে মো. আবুল হোসেন, মো. শাহিন মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া জালু মাস্টার, মো. আক্তার হোসেন।

দরিকান্দি ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল করিম, সফিকুল ইসলাম স্বপন চেয়ারম্যান, এ কে এম জাকারিয়া খোকন এবং মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন বেলাল।
ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তুষার চেয়ারম্যান, মো. জিসান বিল্লাল।

বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন থেকে আবদুর রহিম চেয়ারম্যান, মো. নজরুল ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আলী আহমেদ খোকন, আলমগীর হোসেন, আবুল কালাম আজাদ।
আইয়ুবপুর ইউনিয়ন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান, সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মনির হোসেন, মো. মমিন মিয়া, মো. আহসান উল্লাহ, আবদুর রব রাসেল।

ফরদাবাদ ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, রাশিদুল ইসলাম রাশেদ চেয়ারম্যান, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ, মো. সালাউদ্দিন, মো. শাহিন লিটন।

রূপসদী ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মহসিন মিয়া, মো. দেলোয়ার হোসেন, রহিস খান, মুসা হায়দার।

ছলিমাবাদ ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান রুস্তম আলম, মো. জালাল মিয়া চেয়ারম্যান, কামরুল সিকদার, আনিসুজ্জামান বকুল, মোস্তফা জামাল উদ্দিন খান, মো. সোহাগ, মো. মনির হোসেন।

উজানচর ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, কাজী জাদিদ আল রহমান জনি চেয়ারম্যান, জালাউদ্দিন সজিব, তাজুল ইসলাম ছোট তাজ মিয়া, মো. আক্তার হোসেন।

মানিকপুর ইউনিয়ন থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মুশফিকুল মান্নান বায়ু, মো. ফরিদউদ্দিন চেয়ারম্যান, মো. হানিফ মিয়া, মো. মহিউদ্দিন, খন্দকার আবদুর রশিদ, মো. রফিকুল ইসলাম রবি, মাইনউদ্দিন সৈকত, বাবুল মোল্লা প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন : :