ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন কদম গাছটি কেটে নিলেন বিএনপি নেতা সবুজ মিয়া। তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মুসার নিকটাত্মীয় এবং সাহেব বাড়ির সন্তান। মাত্র ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বাঞ্ছারামপুর মালিপাড়ার ইদ্রিস মিয়ার কাছে গাছটি বিক্রী করে দেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের দক্ষিণ পাশের কদম গাছটি কেটে নিয়ে যায় সবুজ মিয়া। তিনি সাহেব বাড়ির সন্তান হওয়ার কারণে ভয়ে কেউ কোন কথা বলেনি। স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী মতিউর রহমান বাঁধা দিলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয় যে, গাছটি কেটে ফেলার জন্য ভিপি মুসা অনুমতি দিয়েছে। আর সেই কারণেই স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী মতিউর রহমান বাঁধা দেননি।
তবে সাথে সাথেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আতিকুর রহমানকে বিষয়টি অবগত করেন মতিউর রহমান। তিনিও ভয় পেয়ে চুপ করে থাকেন। পরে এলাকায় কানাঘুষা শুরু হলে ঘটনার ৩ দিন পর রবিবার (২২ মার্চ) ‘অজ্ঞাতনামা’ বিবাদী উল্লেখ করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জানায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কেটে বিক্রী করার ঘটনায় পুরো বাঞ্ছারামপুরে নিন্দার ঝড় উঠে। স্থানীয় ক্রীড়াবিদরাও ক্ষোভে ফুঁসে উঠে। স্কুলের পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হয়। কিন্তু অপরাধীরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, গাছ চুরির পুরো বিষয়টি সম্পর্কে এমপি মহোদয়, ইউএনও স্যার এবং ওসি সাহেব জানেন। তারা তদন্ত করছেন। তাছাড়া স্কুলের নৈশ প্রহরী মতি বিষয়টি ভাল বলতে পারবে।
পরে কথা হয় স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী মতিউর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, স্কুলের গাছটি জোরপূর্বক কেটে নেয় বাঞ্ছারামপুর গ্রামের সাববাড়ির সবুজ মিয়া। তিনি মালিপাড়ার ইদ্রিস মিয়ার কাছে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে গাছটি বিক্রী করে দেন। ভিপি মুসা সাব নাকি সবুজকে বলেছে গাছটি কেটে বিক্রী করে দিতে।
অভিযুক্ত মো. সবুজ মিয়া বলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মুসার নির্দেশেই গাছটি কেটে বিক্রি করেছি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মুসা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঈদগাহের কাজ ধরলে গাছ এমনিতেই কাটা যাবে, এটি নিয়ে এতো মাতামাতির কিছু নেই।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। গতকালও অভিযুক্তদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে; তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা আদালত গ্রহণ করবে।
আপনার মতামত লিখুন : :