• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

একজন সংগ্রামী নেতা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | বিশেষ প্রতিনিধি এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম একজন সংগ্রামী নেতা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দুর্দিনের পরীক্ষিত সৈনিক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত এই ত্যাগী নেতা একাধিকবার হামলা, মামলা ও কারাবরণ করেও আন্দোলনের ময়দান ছাড়েননি। দলের দুঃসময়ে, স্বৈরাচারী সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিয়মিত রাজপথে ছিলেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে। আর সেই কারণে বহুবার পুলিশ ও আওয়ামী লীগপন্থী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন।


হারুনুর রশিদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশদোনা গ্রামে। তিনি ১৯৮১ সালের ২৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবদু মিয়া একজন মানবিক সামাজিক মানুষ। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিবেদিতপ্রাণ আবদু মিয়া। তারই সুযোগ্য সন্তান হারুনুর রশিদ।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে হাইস্কুলে পড়াশুনাকালিন সময়েই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে পথচলা শুরু হয়। তারপর ধাপে ধাপে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এবং বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে পথচলা হারুনুর রশিদ বিগত সময়ে শেখ হাসিনা সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। বিএনপির নিবেদিত প্রাণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এই নেতা দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক ভাবে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেছেন। কিন্তু দলের নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুৎ হননি। দলকে ভালবেসে জীবনের বেশীর ভাগ সময় ও অনেক সহায় সম্বল নষ্ট করেছেন। নিজের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার পরিজন রেখে জীবনের বহু সময় জেল হাজতে অন্ধকার কারাগারে কারা নির্যাতিত হয়েছেন ত্যাগী নেতা হারুনুর রশিদ।


বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির চরম দুঃসময়ে বলতে গেলে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকেই আওয়ামী লীগের সাথে গোপন আঁতাত করে চলেছেন। অনেকে বাঞ্ছারামপুর ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করেছেন, অনেকে আবার বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। অথচ দলকে ভালবেসে জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ময়দানে রাজপথে দলের দিকনির্দেশনা মোতাবেক কাজ করেছেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের বুকে আগলে ধরে রেখেছেন, সাহস দিয়েছেন আবার যতটুকু সম্ভব অর্থনৈতিক সাপোর্টও দিয়েছেন। 
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা মার্কা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এতে করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়ে যায়। অনেকে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগের যোগদান করে, অনেকে আবার রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তখনও হতাশ হননি হারুনুর রশিদ। অনেক ঘাত প্রতিঘাত, অন্যায় অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেও বিএনপির কর্মসূচিগুলো পালন করতেন। অন্যদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা তখন সংসদ ভবনে কিংবা ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলামের বাসায় প্রকাশ্যে গোপনে গিয়ে দেখা করতেন, সখ্যতা বজায় রেখে চলতেন। আর হারুনুর রশিদ বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপিকে মাঠ পর্যায়ে চাঙ্গা রাখতে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে গেছেন।


২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলামের কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল খালেক। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম পেয়েছিলেন ২ লাখ ৯৮ ভোট, অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত আবদুল খালেক পেয়েছিলেন মাত্র ১ হাজার ৩শত ২৯ ভোট। যদিও বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল। কিন্তু মাঠে ময়দানে সক্রিয়ভাবে দলের পক্ষে কাজ করার কারণে আবারও আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়েন হারুনুর রশিদ। তিনি একাধিক মামলায় জড়িয়ে পড়েন। হামলা-মামলা, ভয়-ভীতিকে উপেক্ষা করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপিকে চাঙ্গা রাখতে অতীতের যে কোন সময়ে তুলনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন হারুনুর রশিদ। তাছাড়া তিনি দুঃসময়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। একইভাবে আরও কঠিন দুঃসময়ে উপজেলা যুবদলের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে সবকিছু মিলে বিএনপির দুঃসময়ের এক কঠিন যোদ্ধার নাম হারুনুর রশিদ। 


রাজনীতিকেই জীবনের ধ্যান জ্ঞান ও ব্রত হিসেবে নেয়া এই নেতা আপাদমস্তক একজন সামাজিক মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার আনাচে কানাচে তার পদচারণা। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে বেশ সখ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি ঘর, প্রত্যেক মানুষের সাথে হারুনুর রশিদের হৃদয়ের সম্পর্ক। যেই সম্পর্কের শিকড় বেশ গভীরে। পৌরসভার প্রতিটি মানুষকে মনেপ্রাণে ভালবাসেন তিনি। তারাও তাকে মনেপ্রাণে ভালবাসে। আর সেই কারণেই এখানকার মানুষ তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। যেই স্বপ্নের মধ্যে একটি সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার বসবাস। হয়তো সেই কারণেই আগামীদিনে বাঞ্ছারামপুর পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন তিনি।


হারুনুর রশিদ তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হতাশা-ব্যর্থতা এবং চাওয়া পাওয়াকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। রাজনীতির কারণে অনেককে নিঃস্ব হতে দেখেছেন, একইভাবে রাজনীতির মাধ্যমে লুটপাট করে অনেককে অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক হতেও দেখেছেন। সেই সাথে দুঃসময়ে দলের সাথে পল্টি নেয়া নেতা নামধারী বিশ্বাসঘাতকদেরও দেখেছেন। আবার আওয়ামী লীগে পদ না পেয়ে অনেককে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নেতা হতেও দেখেছেন। এককথায় বলতে গেলে সেই ৯০ দশক অর্থাৎ এটিএম ওয়ালী আশরাফ থেকে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয়পার্টি সহ নানা দলের অবস্থান, নেতাকর্মীদের স্বভাব চরিত্র সবকিছুই দেখা ও জানার সুযোগ হয়েছে তার। ফলে এই উপজেলার মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক জ্ঞানে তিনি বেশ দক্ষ, এতে কোন সন্দেহ নেই। দল, পক্ষ-বিপক্ষ কিংবা প্রতিপক্ষ সবকিছুই মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ তারুণ্যের অহংকার হারুনুর রশিদ।


আগামীদিনে একটি সুন্দর বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা বিনির্মাণের পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছেন তিনি। তাছাড়া পুরো বাঞ্ছারামপুর উপজেলাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের স্বার্থে ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করা এই রাজনৈতিক নেতা আমৃত্যু মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে চান।


রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা মানুষ হিসেবে পরিচিত হারুনুর রশিদ। একসময় তিনি প্রচুর বই পড়তেন। বিশেষ করে কবিতা, গল্প ও উপন্যাস এবং ভ্রমণ কাহিনীর বইগুলো তার প্রিয় ছিল। লেখালিখিতে বেশ পারদর্শী ছিলেন। স্কুল-কলেজ জীবনে বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও স্মরণিকায় তার লেখা ছাপা হতো। সাংবাদিকতাও করেছেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন সঙ্গীত প্রিয়। সময় পেলে এখনও পুরনো দিনের গান শুনেন। বন্ধুদের সাথে প্রচুর সিনেমাও দেখতেন।


রাজনীতির কারণে এখন তেমন সময় করতে পারেন না। তারপরও সময় ও সুযোগ পেলে বন্ধুদের সাথে গল্প আড্ডায় মেতে উঠেন। তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।   

Side banner 1 Side banner 2