সময় গড়াচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের দিকে। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সেই উত্তেজনার ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটিতেও।
রাঙামাটি সদরের আসামবস্তি এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের ওপর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা দুটি সেতু এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ভিন্ন নামে একটি ‘ব্রাজিল সেতু’, অন্যটি ‘আর্জেন্টিনা সেতু’। শত মিটারেরও কম দূরত্বে থাকা এই দুটি সেতু এখন ফুটবল আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এক সেতু জুড়ে হলুদ-সবুজ পতাকা আর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস প্রতীক ব্রাজিল ফুটবল দলের। আর পাশের সেতুতে আকাশি-সাদা রঙের দাপট প্রতীক আর্জেন্টিনার।
স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপ এলেই এই এলাকা রূপ নেয় এক উৎসবমুখর জনপদে। পতাকা টাঙানো, সেতু রং করা, ব্যানার ঝোলানো সব মিলিয়ে শুরু হয় এক ভিন্নধর্মী আয়োজন। সন্ধ্যা নামলেই দুই সেতুতে জমে ওঠে আড্ডা, তর্ক, ভবিষ্যদ্বাণী আর ফুটবল নিয়ে আবেগঘন আলোচনা।
অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা ঘুরে দাঁড়ানোর। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে শিরোপার দেখা না মিললেও এবার নতুন আশায় বুক বাঁধছেন তারা। বর্ষা মৌসুম না থাকায় কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় সেতুর পরিবেশ এখন আরও উন্মুক্ত। তবে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে দিন দিন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জমে উঠছে দুই সেতুর ফুটবল আড্ডা।
বিশ্বকাপ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাঙামাটির এই দুই সেতু পরিণত হচ্ছে শুধু যোগাযোগের পথ নয় বরং দুই মহাদেশীয় ফুটবল আবেগের প্রতীকী মঞ্চে। এক পাশে ব্রাজিল, অন্য পাশে আর্জেন্টিনা আর মাঝখানে ফুটবলের সীমাহীন ভালোবাসা।
আপনার মতামত লিখুন : :