• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.

সালথায় মাটিচাপা দেওয়া হলো কোরবানির শত শত চামড়া!


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার মে ২৯, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম সালথায় মাটিচাপা দেওয়া হলো কোরবানির শত শত চামড়া!

কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত গরু ও ছাগলের চামড়া মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। ক্রেতা সংকট, কম দাম ও সংরক্ষণ ব্যয়ের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। এতে প্রতি বছরের মতো অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ, মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো।
উপজেলার গট্টি, রামকান্তপুর, আটঘর ও সোনাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পর সংগ্রহ করা চামড়াগুলো দীর্ঘ সময় বাড়ির উঠান ও রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানো ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় অনেকেই চামড়া মাটিচাপা দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে চামড়ার ক্রেতা না থাকায় এবং দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় চামড়া সংরক্ষণ করাও সম্ভব হয়নি। ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় অনেকে বাড়ির পাশেই  চামড়া মাটিচাপা দিয়েছেন।
সালথার খোয়াড় গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল মাতুব্বর বলেন, আগে একটা গরুর চামড়া বিক্রি করে এক থেকে দুই হাজার টাকা পাওয়া যেত। এবার ২০০-৩০০ টাকাও কেউ দিতে চায়নি। শেষে পচে যাওয়ার ভয়েই মাটিতে পুঁতে ফেলেছি।
সালথার গট্টি এলাকার কৃষক রহিম শেখ বলেন, লবণের দাম বেশি, আবার চামড়া রাখার জায়গাও নেই। আড়তদাররা আসে নাই। এত কষ্ট করে চামড়া সংরক্ষণ করে লাভ কী? স্থানীয় কয়েকটি মাদরাসা ও এতিমখানার কর্তৃপক্ষও চামড়া সংগ্রহে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। 
উপজেলার আবু মুসা নামে একজন মাদরাসা শিক্ষক বলেন, চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন খরচই ওঠে না। অনেক সময় আড়তে নিয়ে গিয়েও বিক্রি করা যায় না। তাই এবার আগের মতো চামড়া সংগ্রহ করিনি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই এমন সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সালথা উপজেলার বাসিন্দা ও সমাজকর্মী মিজানুর রহমান বলেন, চামড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অথচ সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগ্রহ কেন্দ্র চালু করতো, তাহলে মানুষ অন্তত ন্যায্যমূল্য পেত।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, চামড়ার বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে যেন চামড়া নষ্ট না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, সংরক্ষণে ভর্তুকি এবং দ্রুত সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা চালু করা না হলে আগামী বছরগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাবে।

Side banner 1 Side banner 2