নিরাপত্তার আশায় থানার দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি কোনো সহায়তা। পুলিশের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগের মধ্যেই প্রাণ হারাতে হলো এক নারীকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের মাহমুদা আক্তার (৩৫) হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পার হলেও এখনো অধরা রয়েছেন ঘাতক আক্তার হোসেন। শুরু থেকেই পুলিশের গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তা এই হত্যাকাণ্ডকে অনিবার্য করে তুলেছে বলে অভিযোগ স্বজন ও এলাকাবাসীর।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার আগেই বিপদের আশঙ্কা জানিয়ে থানায় গিয়েও কোনো আইনি সহায়তা পাননি ভুক্তভোগীরা। অভিযুক্ত আক্তার হোসেন একজন চিহ্নিত অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে নিজ ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মুক্তা আক্তারকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার (জিআর নং-৮৯/২০২৩) একজন জামিনপ্রাপ্ত আসামি।
গত ১২ মার্চ সকালে আক্তার হোসেন তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে মুক্তা আক্তারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালায়। এ সময় বড় বোন মাহমুদা আক্তার এগিয়ে এসে মুক্তাকে সান্ত্বনা দেন এবং একই দিন তাকে নিয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।
কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় গিয়ে বারবার অনুরোধ করার পরও ডিউটি অফিসার তাদের অভিযোগ আমলে নেননি। অজানা কারণে জিডি গ্রহণ না করে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অবহেলাই পরবর্তীতে ভয়াবহ পরিণতির পথ তৈরি করে দেয়।
থানা থেকে কোনো আইনি সহায়তা না পেয়ে ফিরে আসার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে আক্তার হোসেন। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় মাহমুদা আক্তারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে।
এর ঠিক আট দিন পর, ২১ মার্চ মাহমুদা আক্তার নিজ বাড়িতে একা অবস্থায় থাকাকালে ঘাতক আক্তার হোসেন অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় তার বাবা নাজির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন এবং তাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ভুক্তভোগী মুক্তা আক্তার বলেন, যদি ১২ মার্চ পুলিশ জিডি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিত, তাহলে আজ হয়তো মাহমুদা আক্তার বেঁচে থাকতেন।
মাহমুদা আক্তারের ছোট বোন শম্পা আক্তার বলেন, আমাদের পরিবারের পাঁচজনকে আক্তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আমরা পুলিশের কাছে গেলেও তারা শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছে বলে তদন্ত চলছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে বোঝা যায়, পুলিশ দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তবে কেন ১২ মার্চ জিডি নেওয়া হয়নি সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এদিকে, মাহমুদা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের দাবি, শুধু ঘাতককে গ্রেপ্তার করলেই চলবে না, ঘটনার শুরু থেকে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এমন অবহেলা ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন : :