• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
ঘরে পৌঁছাল এক মাসের খাদ্যসামগ্রী

সুবর্ণচরের সেই বিধবা আয়েশার পাশে ইউএনও


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম সুবর্ণচরের সেই বিধবা আয়েশার পাশে ইউএনও

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার করা তিন সন্তানসহ দিশেহারা জীবনযাপন করা বিধবা আয়েশা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
আয়েশা বেগম সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের মৃত আমির হোসেন লেদুর স্ত্রী। 
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। এতিম হয়ে পড়ে তিন সন্তান মো. সজিব, মো. সৌরভ ও মো. সবুজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় না খেয়ে কিংবা পঁচা ভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। বিদ্যুৎবিহীন জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
নিহত আমির হোসেন পেশায় পিকআপ চালক ছিলেন। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে সংসার চালাতেন। পরে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গাছ উত্তোলনের সময় একটি বড় গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
স্বামীর মৃত্যুর পর আয়েশা বেগমের পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটছে তাদের।
আয়েশা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। অনেক সময় ভালো খাবার জোটে না। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায় লাগে। দুইটা ছেলে অসুস্থ। তাদের চিকিৎসা করাতে পারছি না। ইউএনও স্যার এক মাসের খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন। স্যারের জন্য দোয়া করি। 
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমির হোসেন ছিলেন পরিশ্রমী ও হাসিখুশি মানুষ। মৃত্যুর সময় তার দাফনের খরচও এলাকাবাসী মিলে বহন করতে হয়েছিল। এখন তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। 
এ বিষয়ে ইউএনও আকিব ওসমান বলেন, পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে এক মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাল, ডাল, ছোলা, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ছিল। এছাড়াও ২টা কম্বল দিয়েছি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Side banner