• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন

ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আ.লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | স্টাফ রিপোর্টার ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১২:০১ পিএম ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আ.লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ আসনটি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ধানের শীষ, নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীক না থাকায় ভোটের তেমন উত্তাপ নেই। তারপরও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ব্যানার দেখা গেল ঠিকই; কিন্তু ভোট সম্পর্কে জানতে চাইলে অধিকাংশ ব্যক্তির তেমন আগ্রহ পাওয়া গেল না। ভোট দেবেন না, এমনটাও বলছেন না। আবার ভোট দিতে যাবেন, সেটাও জোরালো নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনটি ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ২১৭.৩৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬শত ৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ২শত ৬২ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ৪শত ১১ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। স্বাধীনতার পর এই আসনে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৩ বার (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিসহ), জাতীয়পার্টি ১ বার, স্বতন্ত্র ২ বার বিজয়ী হয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। এরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি (মাথাল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু কায়েস সিকদার (ফুটবল), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডক্টর সাইদুজ্জামান কামাল (হরিণ), জামাাতের মোহাম্মদ মহসিন (দাঁড়িপাল্লা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সফিকুল ইসলাম (আম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাইদ উদ্দিন খান জাবেদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের সফিকুল ইসলাম (ট্রাক), জেএসডির এ্যাডভোকেট কেএম জাবির (তারা), ইসলামী ফ্রন্টের আবু নাসের (মোমবাতি) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হাবিবুর রহমান (আপেল)। 
স্থানীয় রাজনীতিক, ভোটার এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। তাঁদের ভোট যেদিকে যাবে, সেদিকে পাল্লা ভারী হয়ে যেতে পারে। তবে এই দুই শ্রেণির ভোটারদের বেশির ভাগই মনোভাব প্রকাশ করছেন না। অল্প কিছু নেতাগোছের ব্যক্তি বিএনপি  জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে ভিড়েছেন। সাধারণ ভোটাররা মুখে কুলুপ এঁটে আছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দিয়ে মাথাল প্রতীককে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডক্টর সাইদুজ্জামান কামালও মাঠে রয়েছেন। তাছাড়া ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু কায়েস সিকদার। প্রচার প্রচারণায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জামায়াতও পিছিয়ে নেই। সব প্রার্থীর টার্গেট আওয়ামী লীগের ভোট। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের ভোট যে পাবে, তিনিই এখানে বিজয়ী হবেন। আর সেই কারণেই আওয়ামী লীগের ভোট নিজের দিকে টানতে বিএনপি-গণসংহতি জোট ভেতরে-ভেতরে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি অনানুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা বৈঠকও করছেন। 
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাঞ্ছারামপুর বার্তাকে বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তা চান। অনেকেই মনে করছেন এখানকার ফলাফল যা-ই হোক না কেন, জাতীয়ভাবে বিএনপির সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি। ফলে বাঞ্ছারামপুরে বিএনপি জোট হারলে নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ-সমর্থকেরা চাপে পড়তে পারেন। এ জন্য নানা হিসাব-নিকাশ করে শেষ মুহুর্তে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সেদিকে বিবেচনা করলে আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপি-গণসংহতি আন্দোলন জোটের মাথাল প্রতীকে পড়তে পারে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের জনৈক জনপ্রতিনিধি জানান, ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম জেলে, মহিউদ্দিন মহি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতারা পলাতক। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপি জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকির মাথাল অথবা কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের ভোট বর্জনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের ডক্টর এ ডব্লিউ এম আবদুল হক, ১৯৮৯ সালে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ) মোজাম্মেল হক অদুদ মিয়া, ১৯৮৬ সালে জাতীয়পার্টি শহীদুর রহমান, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী এটিএম ওয়ালী আশরাফ, ১৯৯১ সালে বিএনপির এটিএম ওয়ালী আশরাফ, ১৯৯৪ সালে উপনির্বাচনে বিএনপির শাহজাহান হাওলাদার সুজন, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির শাহজাহান হাওলাদার সুজন, ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম, ২০০১ সালে বিএনপির আবদুল খালেক এবং ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছিলেন।   

Side banner