ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের বৈঠকেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ যাচাইয়ে বিশেষ কমিটি ও কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য তিন কমিটির মধ্যে রয়েছে সংসদ কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটি এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি। বৃহস্পিতবার সংসদ নেতার সম্মতিক্রমে স্পিকার হাফিজ উদ্দীন আহমদ কার্যউপদেষ্টা কমিটি ও সংসদ কমিটির সদস্যদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
অধিবেশনের মেয়াদ নির্ধারণ, বৈঠক চালু ও মূলতবি করাসহ সংসদের বৈঠকের কার্যক্রম সম্পর্কিত সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে কার্য উপদেষ্টা কমিটি। এই কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান, বিএনপি দলীয় সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের দলীয় সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও বিএনপি দলীয় সদস্য নওশাদ জামির।
এ ছাড়া সংসদ কমিটি সংসদ সদস্যদের অফিস ও বাসা বরাদ্দসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করেন। এই কমিটির সদস্যরা হলেন, সভাপতি চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, বিএনপি দলীয় সদস্য রাকিবুল ইসলাম বকুল, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, বিএনপি দলীয় সদস্য কায়ছার আহমদ, শহীদুল ইসলাম, নায়াবা ইউসুফ আহমেদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অলি উল্লাহ, বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সাইফুল আলম খান ও এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের প্রস্তাবে বিশেষ কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটি এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি উত্থাপন করা হলে তাও কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর বাইরে সংসদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজ বাকি রয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তীতে সংসদের বৈঠকে ধারাবাহিকভাবে এসব কমিটি গঠন করা হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করার জন্য ১৪ সদস্য বিশিষ্ট বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. এম ওসমান ফারুক, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, জামায়াতের মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, জিএম নজরুল ইসলাম। পরে এ কমিটি ভোটে দেন স্পিকার যা সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সদস্যরা হলেন সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, বিএনপি দলীয় সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, বিএনপি দলীয় সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিরোধী দল থেকে আরেকজন সদস্য মনোনয়ন করা হবে এ কমিটিতে।
বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান। সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপি দলীয় সদস্য আমান উল্লাহ আমান, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, তাহসিনা রুশদী, নওশাদ জামির, জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী, নুরুল ইসলাম বুলবুল ও এনসিপির আখতার হোসেন। এর আগে সংসদের অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে এই অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় ১৪ সদস্য বিশিষ্ট এক বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
অধ্যাদেশের তালিকার মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৪। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইন সংশোধন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ। এছাড়া শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সংশোধন এবং জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা রহিতকরণ অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, ভোটার তালিকা, স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদের নির্বাচন এলাকা সীমানা নির্ধারণ, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল সংশোধন, সিভিল কোর্টস অ্যামেন্ডমেন্ট, কোড অব ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর সংশোধন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধনের একাধিক অধ্যাদেশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশও কার্যসূচিতে রাখা হয়েছে। এগুলো- হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি তহবিল অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬।
তালিকায় আরও রয়েছে, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, বাংলাদেশ বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বাংলাদেশ গ্যাস, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬ এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ, ২০২৬।
আপনার মতামত লিখুন : :