ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন আইয়ুবপুর। এই ইউনিয়নে দেশ বরেণ্য অগণিত কৃতি সন্তানের জন্ম হয়েছে। এখানে জন্মগ্রহণ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহসানুল হক ফারুক (আইয়ুবপুর), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এম আজিজুল হক (আইয়ুবপুর), সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) সিকদার মো. সাহাবউদ্দিন (নগরীরচর), বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলবরেন নেছা (চরছয়ানী), নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক পরিকল্পনা প্রধান জহিরুল ইসলাম (নগরীরচর), ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ সিকদার (নগরীরচর), বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রকিবউল্লাহ (চরছয়ানী), প্রখ্যাত পরিচালক আজহারুল ইসলাম (আইয়ুবপুর), ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন (বাঁশগাড়ি), আলহাজ্ব টি হোসেন (বাঁশগাড়ি), বিমান বাহিনী অধিকর্তা আলী আহসান বাবু (বাঁশগাড়ি), বজলু মিয়া সিকদার (নগরীরচর), সাবেক ব্যাংকার মোশাররফ হোসেন কাঞ্চন সিকদার (নগরীরচর), প্রখ্যাত গীতিকার ও নাট্যকার টিটন এ রহমান (বাঁশগাড়ি), বাঞ্ছারামপুর সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. ইসহাক বিএসসি (বাঁশগাড়ি), মো. মনু বিএসসি (বাঁশাড়ি), প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম খোকন (আইয়ুবপুর), ইঞ্জিনিয়ার মোফাজ্জল হায়দার রাসেল (বাঁশগাড়ি), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপ পরিচালক প্রকৌশলী আওলাদ হোসেন (বাঁশগাড়ি), বাঞ্ছারামপুর বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন বিএসসি (কানাইনগর), মুন্সি কুদ্ররত আলী বেপারী (বাঁশগাড়ি), আরব চেয়ারম্যান (বাঁশগাড়ি), মো. হুমায়ুন কবির চেয়ারম্যান (বাঁশগাড়ি), সুন্দর আলী চেয়ারম্যান (দশানী), সুলতান আহমেদ মৌলভী চেয়ারম্যান (কানাইনগর), বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান (কানাইনগর), ডাক্তার গোপাল দেবনাথ (দশানী), হারাধন চন্দ্র দাস (দশানী) প্রমুখ।
আইয়ুবপুর ইউনিয়নের এসব কৃতি সন্তানেরা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি এদের অনেকেই আবার ‘বাংলাদেশ’ নামক এই রাষ্ট্রের গর্বিত অংশীদার। যাদের অনুকরণ ও অনুসরণ করে এ প্রজন্মের অনেকেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় যে কয়েকজন তরুণ নিজেদের মেধা, মনন, প্রজ্ঞা এবং কঠোর পরিশ্রমে এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের একজন আবদুর রব রাসেল। বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের চরছয়ানী গ্রামে। তার পিতা মরহুম ইদ্রিস আলী মনির। তিনি একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমৃত্যু মানুষ ও মানবতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন রাসেলের গর্বিত পিতা ইদ্রিস আলী মনির। তাছাড়া আইয়ুবপুর ইউনিয়নের মধ্যে যে কয়েকটি পরিবার শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদায় বিশেষ স্থানে অবস্থান করছে তার মধ্যে ছয়ানীর মোল্লাবাড়ি অন্যতম। এই পরিবারে অগণিত কৃতি সন্তানের জন্ম হয়েছে। এদেরই একজন রাসেল।
আবদুর রব রাসেলের চাচা প্রকৌশলী মো. রকিবউল্লাহ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার চাচা মো. আমানউল্লাহ বাঞ্ছারামপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট চাচা মো. জিন্নাহ গাজীপুর কর্মরত।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তরুণ প্রজন্মের আইকন আবদুর রব রাসেল ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ পাশ করে ব্যবসার সাথে যুক্ত হন। বর্তমানে আরব আমিরাতে ডিপি ওয়ার্ল্ডে সফলতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন সফল রেমিটেন্সযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী। অল্প বয়সে নিজের সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আজকের এই পর্যায়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
আবদুর রব রাসেল স্বপ্ন দেখেন সত্য ও সুন্দরের। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী ও সামাজিক সচেতন রাসেল আইয়ুবপুর ইউনিয়নকে নিয়ে সুন্দর স্বপ্ন দেখেন। মেঘনার কোলঘেষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি আইয়ুবপুরকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যে অন্যতম সেরা ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ আইয়ুবপুর ইউনিয়ন গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সুন্দর পরিকল্পনায় স্বপ্ন বুনছেন।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মধ্যে নানা কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার সাথে সড়কপথে বাঞ্ছারামপুর সহ পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোর যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম রাস্তা হলো আইয়ুবপুর ইউনিয়নের কড়িকান্দি টু বাঞ্ছারামপুর সড়কটি। ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কড়িকান্দি ফেরিঘাটকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রবেশ দ্বার বলা হয়। শুধু তাই নয়, কড়িকান্দি ফেরিঘাট থেকেই জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকার সড়কপথের হিসেব করা হয়। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটি আইয়ুবপুর ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার পরও স্থানীয়ভাবে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইউপি চেয়ারম্যান না থাকার কারণে উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়নে অবস্থান করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে সুন্দর আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিনির্মাণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আবদুর রব রাসেল।
প্রবাসী অধ্যুষিত আইয়ুবপুর ইউনিয়ন কৃষি ও মৎসচাষে অপার সম্ভাবনাময়। তাছাড়া মেঘনার কোলঘেষা এই ইউনিয়ন শিল্প উন্নয়নে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। প্রয়োজন একজন দক্ষ চেয়ারম্যান এবং সঠিক পরিকল্পনা। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বছরে পর বছর ধরে বঞ্চিত হচ্ছে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন। আর সেই কারণেই এই ইউনিয়নের মানুষ এবার নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।
৩০৪৮ একর বা ১২.৩৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের আইয়ুবপুর ইউনিয়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক পিছিয়ে আছে। তাছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে অনগ্রসর। স্থানীয় অস্থির রাজনীতিকেই দায়ি করছেন সচেতনমহল। আর সেই কারণেই তরুণ প্রজন্মের অহংকার আবদুর রব রাসেল নানা কারণেই আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।
বর্তমানে আইয়ুবপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৯ হাজার ১শত ২৩জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৭শত ৯৭ জন, মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৩শত ৬৬ জন। আইয়ুবপুর ইউনিয়ন পূর্বে বাঞ্ছারামপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন নামে পরিচিত ছিল। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পশ্চিমাংশে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের অবস্থান। এই ইউনিয়নের দক্ষিণে মানিকপুর ইউনিয়ন ও বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন, পূর্বে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা, উত্তরে সোনারামপুর ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়ন অবস্থিত।
আবদুর রব রাসেল সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে এখন পর্যন্ত সম্পৃক্ত নন। তবে তিনি রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। এলাকার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। মানুষের দুঃখ কষ্ট এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তার স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। একই সাথে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতিতে কিভাবে একটি এলাকাকে এগিয়ে নেয়া যায়, রাষ্ট্রের উন্নয়নগুলো কিভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া যায়, এসব সম্পর্কে অবগত উচ্চ শিক্ষায় সুশিক্ষিত আইয়ুবপুর ইউনিয়নের গর্বিত সন্তান আবদুর রব রাসেল। তিনি মনেপ্রাণে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের জনগণকে ভালবাসেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কাজ করে যেতে চান।
আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সকল মানুষের ভালবাসা ও দোয়া কামনা করছেন আবদুর রব রাসেল।
আপনার মতামত লিখুন : :