• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Bancharampur Barta
Bongosoft Ltd.
হাকান ফিদান

প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় তুরস্ক


বাঞ্ছারামপুর বার্তা | নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় তুরস্ক

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শুক্রবার (৫ জুন) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন হাকান ফিদান।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বৈঠকে আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে আমাদের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা বিস্তৃত পরিসরে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন করার জন্য যে কাজগুলো করা যেতে পারে তা আমরা আলোচনা করেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে আমাদের সহযোগিতার বিকাশের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমার বিস্তৃত আলোচনা করেছি।’ হাকান ফিদান আরও বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আমাদের অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছি।’
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। সমগ্র মানবতার পক্ষ থেকে একটি ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ এটি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও ন্যায্য সমাধান খুঁজতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ ও সংস্থার সঙ্গে সংহতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছি। তুরস্ক এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এজেন্ডায় রাখার জন্য নিবিড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
হাকান ফিদান আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আমরা তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনে সমর্থন অব্যাহত রাখব।’
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক সংঘাত আগের চেয়ে বেশি বৈশ্বিক গতিশীলতাকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমান দ্বন্দ্ব এবং অস্থিরতার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং বিস্তৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আমাদের সকলের জন্য গভীর উদ্বেগের।’ তাঁর ভাষ্য, ‘ইরান যুদ্ধ নেতিবাচকভাবে আমাদের অঞ্চলের বাইরে সমগ্র বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে। এ ক্ষেত্রে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে তাকে আমরা স্বাগত জানাই।’
হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই আলোচনাগুলো সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছাবে এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি ভিত্তি প্রস্তুত করবে। হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা এবং যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে আসা বিশ্ব অর্থনীতি, শক্তি এবং নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, যে কোনো বিরোধ কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে আমরা আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘আমরা এই বিষয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আমাদের পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছি। এই কাঠামোতে আমরা যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করার জন্য পাকিস্তানের দেখানো মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাগুলোও দেখতে পাই এবং এই প্রচেষ্টাগুলোকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে চলেছি।’ তিনি বলেন, ‘একদিকে যখন আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে, আমরা মাঝে মাঝে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে গভীর উদ্বেগ অনুভব করি। সেজন্য কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করে এমন পদক্ষেপগুলো সংশ্লিষ্টদের এড়িয়ে যাওয়া উচিত।’
ফিলিস্তিন ইস্যুতে হাকান ফিদান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অভিন্ন ইচ্ছা প্রদর্শন করতে হবে। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতি নাশকতার জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টা ঠেকানো অপরিহার্য।’ তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ঠেকাতে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ইসরায়েল গাজায় তার গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের গভীর ক্ষত খুলে দিয়েছে।’
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নিয়ে হাকান ফিদান বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের বহুমাত্রিক সহযোগিতার পরিধি এমনভাবে বিস্তৃত, যা গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কযুক্ত দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মানানসই। আমরা নতুন প্রকল্পগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জোরদার করতে এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং সমৃদ্ধিকে সুসংহত করতে আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’
সফর উপলক্ষে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে বলেও জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Side banner 1 Side banner 2